নিজের রাজনৈতিক পরিচয় জাহির করে দিনদুপুরে একটি বাড়িতে ঢুকে গুলি করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বাড়ির তিন নারী সদস্যের হাতে ধরা পড়েছেন এক যুবলীগ নেতা। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি ভারতীয় পিস্তল ও ছয়টি গুলি। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে সাতক্ষীরার তালা থানায় নিয়ে এসেছে।
গ্রেপ্তার হওয়া সাব্বির আহমেদ ওরফে সাথী গোলদার তালা উপজেলার খেসরা ইউনিয়নের হরিহরনগরের জেলা যুবলীগ নেতা আবদুস সামাদ গোলদারের ছেলে। সাথী আগে ছাত্রলীগ করতেন। এখন ইউনিয়ন পর্যায়ের যুবলীগ নেতা বলে জানান স্থানীয় লোকজন।
তালা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল আহাদ জানান, সাথী একটি বেআইনি পিস্তল নিয়ে আজ বিকেল ৩টায় দক্ষিণ শাহজাদপুর গ্রামের সুজিত মণ্ডলের বাড়িতে ঢুকে তাঁকে গুলি করতে উদ্যত হন। সুজিত দ্রুত পেছনের দরজা দিয়ে লাফিয়ে বেরিয়ে যান। ওই মুহূর্তে সুজিতের স্ত্রী সন্ধ্যা রানী মণ্ডল, মেয়ে দোলা মণ্ডল ও বোন করুণা শিখা মণ্ডল তাঁকে জাপটে ধরেন। সাথী এ সময় তাঁদের গুলি করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। ধস্তাধস্তি করে তাঁকে আটকে চিৎকার দেন বাড়ির নারীরা। এ সময় প্রতিবেশীরা তাঁকে ঘিরে ফেলে তালা থানা ও স্থানীয় বালিয়া পুলিশ ক্যাম্পে খবর দেন। কিছু সময় পর পুলিশ সাথীকে গ্রেপ্তার করে এবং ভারতীয় পিস্তল ও ছয় রাউন্ড গুলিও জব্দ করে।
এসআই আরো জানান, সুজিত মণ্ডল তিন সপ্তাহ আগে সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্ত নিয়ে স্থানীয় সারিগাতি খাল জলমহালে মাছ চাষ করে আসছেন। তাঁর নেতৃত্বে ২১ সদস্যের একটি সুফলভোগী সমিতি খালটি দখলে নিয়েছে। সাব্বির ওরফে সাথী আজ দুপুরে তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে এই খাল ছেড়ে দিতে বলেন। এতে রাজি না হওয়ায় সাথী তাঁকে গুলি করতে উদ্যত হন। সুজিত প্রাণে বাঁচতে লাফ দিয়ে বেরিয়ে যান। এ সময় বাড়ির লোকজন তাঁকে কৌশলে আটক করে বালিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন। সাথীর বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।


