“পানি বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিবা, দরজা খুললে মাফ চাবা। এটা করা যাবে তো, নাকি? মন্ত্রী হিসেবে আমি নির্দেশ দিয়েছি। রমজানে পানি না দিলে আল্লাহও কিন্তু তার বিচার করবে।” রমজানের পবিত্রতা রক্ষা এবং রোজায় নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে রোববার সচিবালয়ে এক সভায় ওসাকে এই নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
রমজানে রাজধানীতে ওয়াসা বিনামূল্যে পানি সরবরাহ করবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। আর পাইপ লাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করতে না পারলে ওয়াসাকে পানি বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়ে বাসিন্দাদের কাছে ক্ষমাও চাইতেও বলেছেন তিনি।
একই সঙ্গে নাগরিকদের পানি পাওয়ার বিয়য়টি নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের জন্য রাস্তায় সৃষ্ট সমস্যা দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের মেয়র, ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা রোজাকে সামনে রেখে তাদের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে সমস্যার কথাও মন্ত্রীকে জানান।
ঢাকা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) মাহমুদ হোসেন বলেন, “আমরা প্রতিদিন ২৪৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করে আসছি।”
তার কথা শেষ না হতেই মন্ত্রী মোশাররফ বলেন, “ঢাকায় পৌনে দুই কোটি লোকের ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ রোজা রাখেন। প্রতিদিন কোনো না কোনো এলাকায় ওয়াসার পানির স্বল্পতা দেখা দেয়।”
মন্ত্রীর বক্তব্যের সময় ওয়াসার এই কর্মকর্তা ‘স্যার’, ‘স্যার’ বলে সম্মতি জানান।
রোজার সময় গ্রাহকদের সমস্যা জানতে ওয়াসাকে ২৪ ঘণ্টার জন্য একটি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র খোলার নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “কোথাও পানির সমস্যা হলে যেন আপনারা সঙ্গে সঙ্গে জানাতে পারেন। কন্ট্রোল রুম করলে আপনারাও ২৪ ঘণ্টা খবর পাবেন।”
বৈঠকে মন্ত্রী ওয়াসাকে জরুরি মনিটরিং কক্ষ চালু করে তা ২০ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশ দেন। এছাড়া মনিটরিং কক্ষের ফোন নম্বর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের ব্যবস্থা করার কথাও বলেন তিনি।
রমজানের পবিত্রতা রক্ষা ও জনদুর্ভোগ লাঘবে শিথিলতার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
বৈঠকে রমজান উপলক্ষে ইফতারির দোকান ও হোটেল রেস্তোরাঁর ব্যবসায়ীরা যাতে পচা-বাসী, বিষাক্ত ও রাসায়নিক রঙ যুক্ত খাবার এবং ভেজাল খাদ্য বিক্রি করতে না পারে সে জন্য তদারকি বাড়াতে নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ এর অধীনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ ছাড়া একই আইনে ফলমূলের দোকান, সবজি ও মাছের বাজারে নিয়মিত ফরমালিন পরীক্ষা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষার জন্য যাতে প্রকাশ্যে কেউ পানাহার করতে না পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্টদের উদ্বুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠকে নিরাপদ খাদ্য, খাদ্যের পরিচ্ছন্নতা ও খাদ্য ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি সম্পর্কে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিটি করপোরেশনগুলোর ডাস্টবিন ও রাস্তাঘাট নিয়মিত পরিষ্কার করা, জনসাধারণের চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখল মুক্ত করা, ঈদের ১০ দিন আগেই রাস্তাঘাটের নির্মাণ কাজ শেষ করা, রাস্তা থেকে নির্মাণ সামগ্রী অপসারণ করা, রাস্তার গর্ত ও নর্দমা ভরাট করা, জলাবদ্ধতা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।


