বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

শেষ দফার ইউপিতে ৪০৩ চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের, বিএনপি ৬২

last upপ্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে হওয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের ষষ্ঠ ও শেষ ধাপে চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ৪০৩টিতে এবং বিএনপি ৬২টিতে জয় পেয়েছে; স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ১৮৪টিতে।

শনিবার শেষ ধাপে দেশের ৬৯৮ ইউপিতে ভোট হয়। এ ধাপে ২৪ ইউপিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন একক প্রার্থীরা। তাদের দুইজন স্বতন্ত্র, বাকিরা আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

রোববার দুপুর পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ৬৬৮ ইউপির ভোটের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পৌঁছেছে। কেন্দ্র স্থগিত থাকায় ১৩ ইউপিতে পুনরায় ভোট হবে এবং বাকি ১৭ ইউপি রাঙ্গামাটিতে; প্রত্যন্ত এলাকাটি থেকে ইসিতে ফল পৌঁছতে বিলম্ব হচ্ছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো প্রাথমিক ফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, শেষ ধাপে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা ৩৮১ ইউপিতে জয় পেয়েছেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বী ২২ জনকে নিয়ে এ ধাপে নৌকা প্রতীক নিয়ে ৪০৩ ইউপিতে জিতেছে আওয়ামী লীগ।

বিএনপির প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ৬২ ইউপিতে। আর জাতীয় পার্টি ১৫টি, জেপি ১টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টিতে জয় পেয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, ষষ্ঠ ধাপে ৭৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। ১ কোটি ১৩ লাখ ৪৩ হাজার ৭১৯ জন ভোটারের মধ্যে ৮৫ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৭ জন ভোট দিয়েছেন।

ইসির জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান বলেন, রাঙ্গামাটির সব ইউপির তথ্য পেতে বিলম্ব হতে পারে। দিন শেষে সব ইউপির প্রাথমিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর ইসির অনুমোদন সাপেক্ষে গণমাধ্যমে জানানো হবে।

ছয় ধাপে আ. লীগ ২৬৭০, বিএনপি ৩৭২
ইউপিতে প্রথমবারের মতো দলভিত্তিক এই ভোটে অন্তত দেড় ডজন দল অংশ নিলেও মূল লড়াই হচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে। পাঁচ ধাপে চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থীরা ২৬৭০ ইউপিতে ও ধানের শীষের প্রার্থীরা ৩৭২ ইউপিতে জয়ী হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন ৮৮০ জন।

নির্বাচন কমিশনের হিসাবে, প্রথম ধাপে ৭৪ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে ৭৮ শতাংশ, তৃতীয় ধাপে ৭৬ শতাংশ, চতুর্থ ধাপে ৭৭ শতাংশ, পঞ্চম ধাপে ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ ও ষষ্ঠ ধাপে ৭৬ শতাংশ ভোট পড়েছে।

প্রথম ধাপের চূড়ান্ত ফলে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান হয়েছেন ৪৯৪ জন ও বিএনপির ৫০ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পান ১০৯ ইউপিতে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের ৫৪ জন।

দ্বিতীয় ধাপে নৌকা প্রতীকের ৪১৯ জন ও ধানের শীষের ৬৩ জন বিজয়ী হন। ১১৭ ইউপিতে জয় পান স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগের ৩৪ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

তৃতীয় ধাপের ভোটে আওয়ামী লীগ থেকে চেয়ারম্যান হয়েছেন ৩৬৬ জন; বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ২৯ জন। বিএনপির প্রার্থীরা ৬০টি ইউপিতে জয়ী হয়েছেন; স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পান ১৩৯টিতে।

চতুর্থ ধাপে নৌকা প্রতীকের ৪০৫ জন জয়ী হয়েছেন। এর সঙ্গে যোগ হয় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ৩৫ জন। এ ধাপে বিএনপির ৭০ জন ও ১৬১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী জয় পেয়েছেন।

পঞ্চম ধাপে আওয়ামী লীগ থেকে ৩৯২ জন ভোটে এবং ৩৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। আর বিএনপির ৬৭ জন, স্বতন্ত্র ১৭০ জন, জাতীয় পার্টির ৯ জন এবং অন্য দলের একজন প্রার্থী চেয়ারম্যান হয়েছেন।

শেষ ধাপে আওয়ামী লীগ ৪০৩টিতে জয় পেয়েছে।এর মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বী ২২ জন। এ ধাপে বিএনপি ৬২টিতে জয় পেয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ১৮৪টিতে।

দেশের সাড়ে চার হাজার ইউপির মধ্যে চার হাজার একশ’রও বেশি ইউপির ভোট শেষ হয়েছে শনিবার। মেয়াদোত্তীর্ণ হলে বাকিগুলোর নির্বাচন হবে।

কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন ইসির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ফেব্রুয়ারিতে। এর আগে নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহের দুটি সংসদীয় আসনের উপ- নির্বাচন এবং বেশ কিছু পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হওয়ার কথা।

আরও পড়ুন