পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতুর হত্যার তদন্তে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার। সোমবার দুপুরে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা কাউকে গ্রেপ্তার করিনি। তথ্য উদঘাটনের জন্য চারজনকে আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রয়োজন হলে তাদের আটক দেখানো হবে।”
ওই চারজনের পরিচয় কী, তাদের কোথা থেকে কখন ধরা হয়েছে, সে তথ্য প্রকাশ করেননি পুলিশ কমিশনার।
তিনি বলেন, “তদন্তের স্বার্থে কিছু বলা যাবে না। পরে প্রয়োজন হলে আটক দেখিয়ে নাম পরিচয় প্রকাশ করা হবে।”
রোববার সকালে ও আর নিজাম রোডের বাসা থেকে প্রথম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে জিইসি মোড়ে যাওয়ার সময় খুন হন এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু।
মোটরসাইকেলে করে আসা তিন হামলাকারী জিইসি মোড়সংলগ্ন বেকারির দোকান ওয়েল ফুডের সামনে মিতুকে প্রথমে ছুরি মারে এবং পরে মাথায় গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায়।
এরপর আশপাশের বিভিন্ন দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। রাতভর অভিযানে পাঁচলাইশ থানার বাদুড়তলা বড় গ্যারেজ এলাকায় পাওয়া যায় একটি মোটর সাইকেল, যেটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি।
তদন্তকারীরা জানান, হত্যাকাণ্ড শেষ করতে খুনিরা মাত্র ৪০ থেকে ৫০ সেকেন্ড সময় নেয়। ওই খুনের সঙ্গে সাম্প্রতিক বিদেশি, হিন্দু পুরোহিত, খ্রিস্টান যাজকদের ওপর হামলার মিল পাওয়া যায়; যেসব ঘটনায় জঙ্গিরাই মূল সন্দেহভাজন।
পুলিশ কমিশনার বলেন, মূলত গোয়েন্দা পুলিশ অন্য সব বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে।
“এ হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে জেএমবির সংশ্লিষ্টতাকে প্রধান্য দিয়ে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এই হত্যার ঘটনায় পাঁচলাইশ থানার এসআই ত্রিরতন বড়ুয়া রোববার রাতে একটি মামলা করেছেন, যাতে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে, মিতু হত্যা মামলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে এসপি বাবুল আক্তার অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার পরপরই লোমহর্ষক এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার পুলিশের ওই সংস্থাকে দেয়া হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য।
পুলিশ সদস্যদের মনোবল ভেঙে দিতেই জঙ্গিরা এ ধরনের হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে মন্তব্য করে ঢাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, পুলিশ কর্মকর্তাদের পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি সরকার নিশ্চিত করবে।


