নির্বাচন কর্মকর্তাকে পেটানো চট্টগ্রাম বাঁশখালীর স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তার দল আওয়ামী লীগ। স্থানীয় আওয়ামী লীগের অভিযোগ, ‘বিশেষ কারণে ও ব্যক্তিদের পরামর্শে’ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম সাংসদ মোস্তাফিজুরের বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’ করছে।
সোমবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা।
লিখিত বক্তব্যে বাঁশখালী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল গফুর ১ জুনে সংঘটিত ঘটনার বিষয়ে বলেন, “বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে সাংসদ নির্বাচন কর্মকর্তা জাহিদের কাছে জানতে চান।
“তখন তিনি সাংসদকে অগ্রাহ্য করে ‘যা বলার তা নির্বাচন কমিশনকে জানাবেন’ বলেন। এসময় ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ করে কয়েকজন উনার (জাহিদ) দিকে তেড়ে গেলে সাংসদ তাদের নিবৃত্ত করেন। এরপর ওই কর্মকর্তা নির্বাচনী সরঞ্জাম আনার কথা বলে ওখান থেকে বের হয়ে যান।”
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহিদ বলেন, সংসদ সদস্য মোস্তাফিজ তাকে ইউএনওর কার্যালয়ে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। যাওয়ার পরই তার উপর চড়াও হন সংসদ সদস্য।
“তিনি শুরুতে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় একটি গালি দিয়ে বলেন, কথা শুনছ না কেন? বলেই তিনি চড় মারতে শুরু করেন।”
জাহিদের অভিযোগ, ‘ফর্দ অনুযায়ী’ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ‘নিয়োগ না দেওয়ায়’ ক্ষুব্ধ হয়ে তার উপর চড়াও হয়েছিলেন স্থানীয় সাংসদ মোস্তাফিজ।
নির্বাচন কর্মকর্তা জাহিদ এই ঘটনা নিয়ে ‘বিভ্রান্তিকর’ তথ্য দিচ্ছেন দাবি করে আওয়ামী লীগ নেতা গফুর বলেন, এটা ‘বিশেষ ব্যক্তির পরামর্শে বিশেষ কারণে’ সাংসদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ। বিদ্রোহী প্রার্থী ও সংস্কারপন্থিরা এ ঘটনার পেছনে থাকতে পারেন।
এই ঘটনায় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানান গফুর।
“মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করে নিতে হবে। নির্বাচনের উপর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে খুব দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানের জোর দাবি জানাচ্ছি।”
ওই ঘটনার পর বাঁশখালীর সব ইউনিয়নে ভোট স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উপজেলা নির্বাচনী কমকর্তা জাহিদের বদলি চেয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চিঠি দিয়েছেন।
নাশকতা মামলার আসামিদের প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে বাঁশখালীর আওয়ামী লীগ নেতারা অভিযোগ করলেও সংবাদ সম্মেলনে তাদের নাম জানাতে পারেননি।
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক খোরশেদ আলম, দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মো. গালিব, বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু সৈয়দ চৌধুরী ও প্রচার সম্পাদক সরোয়ার জামাল উপস্থিত ছিলেন।


