মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমা বলেছেন, জঙ্গিদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানোর চেষ্টা চলবে কিন্তু আর কোনও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে সরকার কোনও সংলাপে যাবে না। বরং বাংলাদেশ সরকারকে চাপ দিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে তারা অনুরোধ করবেন যাতে সেখানে কোনও জঙ্গি গোষ্ঠী প্রশ্রয় না পায়। গতকাল এ খবর দিয়েছে আসামের অনলাইন মিডিয়া।
এর আগে আসাম অনলাইন মিডয়ার অপর এক খবরে বলা হয়, বাংলাদেশ এর আগে যদিও উলফা নেতা অনুপ চেটিয়াকে ফেরত দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের কাছে থাকা অন্তত আরও তিন নেতার হস্তান্তর প্রক্রিয়া এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে। তারা সবাই আসামের এবং দুজন উলফার। এদের দুজন ইতিমধ্যে বাংলাদেশের কারাগারে সাজা খাটা শেষ করেছেন।
২০১০ সালের ১৭ই জুলাই বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ উলফার স্বঘোষিত সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট প্রদীপ রায় এবং ২০০৪ সালে আরেক সদস্য লাদেন রাভা ওরফে সিদ্ধেশ্বর রাভা গ্রেপ্তার হন। সূত্রমতে ধুবরি জেলার গৌরিপুরের রায় বিশোরগঞ্জ জেলে যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন। আর আসামের গোয়ালাপাড়ার লাদেন সাজা খাটা শেষ করলেও তিনি বর্তমানে শেরপুর জেলে আছেন। তৃতীয় ব্যক্তি হলেন, গোয়ালাঘাটের শম্ভু মুশাহারি।
২০১৫ সালের ফ্রেবুয়ারিতে তার সাজার মেয়াদ শেষ হলেও তাকে কাশিপুরের দু নম্বর জেলে রাখা হয়েছিল। তবে এখন ধারণা করা হয় তিনি শেরপুর জেলে আছেন। এই শম্ভুর নামে কোনও অপরাধের রেকর্ড নেই। তার ১০ বছর সশ্রম করাভোগ শেষ হয়েছে এবং গত দুবছর ধরে তার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াধীন আছে। ওই দুই উলফাকে দ্রুত ফেরত চাইছে আসাম। এদিকে মেঘালয় মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ওই ধরনের রাজনৈতিক সংলাপ উদ্যোগের ফলে শুধু ‘আঙ্গুল পুড়ে’ যায় কোনও লাভ হয় না।
মেঘালয় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হিন্যিউট্রেপ ন্যাশনাল লিবারেশন কাউন্সিল (এইচএনএলসি) নামের একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী বাংলাদেশ থেকে এখন তৎপরতা চালাচ্ছে, যদিও রাজ্যে তাদের নেটওয়ার্ক আছে। তাদের সঙ্গে উলফার যোগসাজশ রয়েছে। তারা তাদের অপরাধমূলক কাজে সক্রিয় রয়ছে। তাই আমরা ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করব যাতে বাংলাদেশের ‘বন্ধুভাবাপন্ন’ সরকারের ওপর তারা চাপ প্রয়োগ করে যাতে কোনও জঙ্গি গোষ্ঠী প্রতিবেশী বাংলাদেশকে অভয়ারণ্য হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে।


