বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে রিটকারীদের বিরুদ্ধে মামলার আর্জি খারিজ

hefajat-1-500x308ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করার বৈধতা নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ এনে করা মামলার আর্জি খারিজ করে দিয়েছে আদালত। ঢাকার কদমতলীর দক্ষিণ দনিয়ার বাসিন্দা মুফতি মাসুম বিল্লাহ (৪৭) রোববার ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে ওই আর্জি জানিয়েছিলেন। আবেদনটি শুনে বিচারক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ পরে তা খারিজ করে দেন বলে জানান মাসুম বিল্লাহর আইনজীবী পি কে আব্দুর রব।

এ আদালতের পেশকার শিশির হালদার জানান, হাই কোর্ট সম্প্রতি ওই রিট আবেদনের ‘ফয়সালা করে দেওয়ায়’ এবং আর্জিতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ‘কোনো উপাদান না পাওয়ায়’  মহানগর হাকিম আবেদনটি খারিজ করে দেন।

সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনকালে ১৯৮৮ সালের ৫ জুন সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী অনুমোদন হয়। সেখানে বলা হয়, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম হবে ইসলাম, তবে অন্যান্য ধর্মও প্রজাতন্ত্রে শান্তিতে পালন করা যাইবে’।

ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে ১৯৭১ সালে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতিতে এই পরিবর্তনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তখনই ‘স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটির’ পক্ষে ১৫ বিশিষ্ট নাগরিক হাই কোর্টে এই রিট আবেদন করেন।

তাদের যুক্তি ছিল, বাংলাদেশে নানা ধর্মবিশ্বাসের মানুষ বাস করে। এটি সংবিধানের মূল স্তম্ভে বলা হয়েছে। এখানে রাষ্ট্রধর্ম করে অন্যান্য ধর্মকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি বাংলাদেশের অভিন্ন জাতীয় চরিত্রের প্রতি ধ্বংসাত্মক।

২৮ বছর আগে করা ওই রিট আবেদন গত মার্চে খারিজ করে দেয় হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ।  রায়ে বলা হয়, কোনো ‘কমিটির’ রিট আবেদন করার ‘এখতিয়ার নেই’ বলে  সেটি খারিজ করা হল।

রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রাখার পক্ষে রায় না এলে দেশ অচল করার হুমকি দিয়েছিল কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। আর ওই রিট আবেদনকে ‘দেশকে ধর্মহীন রাষ্ট্রে পরিণত করার চক্রান্ত’ আখ্যায়িত করে জামায়াতে ইসলামী সারাদেশে হরতালও করে।

সেই ১৫ আবেদনকারীর মধ্যে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, একাত্তরের সেক্টর কমান্ডার অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল চিত্তরঞ্জন দত্ত, রাজনৈতিক-কলামনিস্ট বদরুদ্দীন উমর ও অধ্যাপক বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর জীবিত আছেন।

এই পাঁচজনের সঙ্গে হাই কোর্টে তাদের হয়ে মামলা লড়া সুব্রত চৌধুরীকেও আর্জিতে আসামি করতে চেয়েছিলেন মাসুম বিল্লাহ।

তিনি আর্জিতে বলেন, “রিট আবেদনকারীরা একটি ধর্মহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং বুঝে শুনে ইসলাম ধর্মের সমুন্নতাকে খর্ব করার অসৎ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে।

“এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য তারা হাই কোর্টে রিট আবেদন করে সম্পূরক রুল জারি করিয়ে বাংলাদেশের ১৪ কোটি মুসলমানসহ বিশ্বের ১০০ কোটি মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে।”

ধর্মহীন রাষ্ট্রকে ‘বৃহৎ গণিকালয়’ আখ্যায়িত করে আবেদনকারী তার আর্জিতে লেখেন, “ধর্মের ধ্বজাধারী একদল অধার্মিক তাদের খেয়াল-খুশি বাস্তবায়নের জন্য অধর্মের লীলাভূমি অনুসন্ধান করে।”

মাসুম বিল্লাহ তার আর্জিতে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদেরও সমালোচনা করেন।

তিনি সেখানে বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ গঠিত হয়েছে। তারা তাদের ধর্মীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য সচেষ্ট। যদিও এদের মধ্যে কোনো ধর্মীয় ঐক্য নেই; সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ধর্মের বিরোধিতা করা তাদের একমাত্র কাজ।”

আরও পড়ুন