উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগে করা মামলায় বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন বাঁশখালীর সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার সকালে তিনি আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বাঁশখালীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. সাজ্জাদ হোসেন তা মঞ্জুর করেন।
মোস্তাফিজুর রহমানের আইনজীবী আবুল হাশেম সাংবাদিকদের বলেন, ‘উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুসারে এখানে আত্মসমর্পণ করেন সংসদ সদস্য। তার পক্ষে করা জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত।’
একই মামলার অন্য দুই আসামি উপজেলার ৪ নম্বর বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী তাজুল ইসলাম এবং স্থানীয় ওলামা লীগ নেতা মাওলানা আখতারও জামিন পেয়েছেন বলে জানান হাশেম।
সংসদ সদস্য মোস্তাফিজ ১২ জুন হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করে ২০ জুনের মধ্যে তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসর্মপনের নির্দেশ দেয়।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাচনী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম গত ৩ জুন বাঁশখালী থানায় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে ওই মামলা দায়ের করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ফর্দ অনুযায়ী ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ না দেয়ায় ১ জুন ওই সংসদ সদস্য ও তার লোকজন ইউএনও কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে তাকে মারধর করেন।
গত এপ্রিলে বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনার পর আলোচনায় আসা এমপি মোস্তাফিজ মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ছাত্রলীগের ছেলেরা ওই নির্বাচন কর্মকর্তার দিকে তেড়ে গিয়েছিল মাত্র। নির্বাচনী কর্মকর্তা জাহিদুল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সহানুভূতি পেতে ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করেছেন।
ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক নেতা জাহিদুলকে দুর্নীতিবাজ আখ্যা দিয়ে তার বিরুদ্ধে জামায়াত সংশ্লিষ্টতারও অভিযোগ এনেছেন আওয়ামী লীগের এই এমপি।


