অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের আবাসন ব্যবস্থা করতে ২০০৫ সালে ‘কনস্ট্রাকশন অব ক্লিনার্স কলোনি অব ঢাকা সিটি করপোরেশন’ নামে ২০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। এ প্রকল্প থেকে প্রায় ৬ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের অনুসন্ধানে তৎকালীন সরকারের এ বিপুল পরিমান টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাত জনের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলার অনুমোদন দিয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের এক বৈঠকে এসব মামলার অনুমোদন দেয়া হয়। শিগগিরই দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা আবদুছ ছাত্তার সরকার বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করবেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
দুদক সূত্র জানায়, ডিসিসির ধলপুর ও সূত্রাপুর প্রকল্প বাস্তবায়নকালে এসব দুর্নীতি করা হয়েছে। যেখানে জড়িত আছেন বর্তমান ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তরের (ডিএনসিসি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীসহ সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা।
সূত্র আরো জানায়, যাদের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দেয়া হয়েছে তারা হলেন- ডিএনসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মেজবাহুল করিম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী ও বর্তমানে পটুয়াখালীর বাউফল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুস সালাম, ডিএসএসসি সহকারী প্রকৌশলী মো. আতিক উল্লাহ মৃধা, রামপুরার বিক্রমপুর ট্রেডিং হাউজের মালিক নিজাম উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা ওয়ারীর ব্যবসায়ী হাজী এমএম জাহিদ হোসেন এবং মগবাজারের প্রতিষ্ঠান নাজমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানির মালিক ইঞ্জিনিয়ার মো. ইকবাল হোসেন।
এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মেজবাহুল করিম ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক সহকারী প্রকৌশলী ও বাউফল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমানকে তিন মামলায় আসামি করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, ২০০৫ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশনের অধীনে দয়াগঞ্জ, ধলপুর ও সূত্রাপুর ক্লিনার্স কলোনি নির্মাণ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। যার ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এসব প্রকল্পের মধ্যে ধলপুর প্রকল্পের ‘ক’ বিল্ডিং বাস্তবায়নকালে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৭৯ হাজার ৫০২ টাকা, একই প্রকল্পের খ, গ ও ঘ বিল্ডিং বাস্তবায়নকালে ৩ কোটি ১৮ লাখ ২৬ হাজার ৪৮৪ টাকা এবং সূত্রাপুর প্রকল্পের ক ও খ বিল্ডিং বাস্তবায়নকালে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৯ হাজার ২৯৩ টাকা আত্মসাৎ করে।
বরাদ্দকৃত নির্মাণসামগ্রীর চাইতে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে মোট ৫ কোটি ৯৯ লাখ ১৫ হাজার ২৭৯ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে দুদকের দীর্ঘ অনুসন্ধানে প্রমাণিত হওয়ায় দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা তিনটি দায়ের করা হবে।
প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের করা ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ২০০৭ সালের মে মাসে একটি ভবন ধসে পড়ে এবং সব নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে এসে ‘কনস্ট্রাকশন অব ক্লিনার্স কলোনি অব ঢাকা সিটি করপোরেশন’ এর নতুন প্রকল্পের আওতায় ১৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। এই মোট ব্যয়ে ১৩টি ভবনের মধ্যে ৫টি ধলপুরে, ৫টি দয়াগঞ্জে এবং ৩টি সূত্রাপুরে নির্মিত হওয়ার কথা ছিল।


