প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভারতের লোকসভার সদস্য ও দেশটির রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির ছেলে অভিজিৎ মুখার্জি। শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে এই সাক্ষাৎ হয় বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।
এসময় আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ফারুক খান, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহজাবিন খালেদ উপস্থিত ছিলেন।
ইহসানুল করিম জানান, সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের সরকার ও জনগণের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ভারতের এই সহায়তার কথা বাংলাদেশের জনগণ কখনোই ভুলবে না।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, সহযোগিতা বৃদ্ধি হলে এবং যোগাযোগ অব্যাহত থাকলে তা ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে সবকিছুর জন্য ভালো বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আরও বর্ডার হাট স্থাপন করা হলে তা আরও ভালো ফলাফল বয়ে আনবে এবং চোরাচালান কমবে বলেও প্রধানমন্ত্রী এসময় মন্তব্য করেন।
২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় দুই দেশের সীমান্তের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত জনগণের সুবিধার জন্য পাইলট ভিত্তিতে সীমান্ত হাট (র্বডার হাট) স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়।
কুড়িগ্রাম, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী সীমান্তে এই হাট চালু আছে। আরও কয়েকটি হাট চালুর প্রস্তুতি চলছে দুই দেশে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক এই অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য ইতিবাচক বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।
এসময় সার্কভুক্ত দেশগুলোকে দারিদ্রমুক্ত করতে সবার সহযোগিতার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিদেশে থাকা খুনিদের অবস্থান নিয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামরি মধ্যে পাঁচজনের ফাঁসি র্কাযকর করা হলেও ছয়জন বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছেন; বাকি একজন মারা গেছেন।
পলাতক রাশেদ চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্রের এবং নূর চৌধুরীকে কানাডার ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানানোর দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যারা মানবতাবিরোধী, মানবাধিকার সংগঠনগুলো তাদেরই রক্ষা করে। আমি এর ভিকটিম।”
সাক্ষাৎকালে প্রণবপুত্র অভিজিৎ বাংলাদেশের আতিথেয়তার প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের স্থান ভারতের জনগণের হ্নদয়ে রয়েছে।


