বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গুপ্তহত্যা বিষয়ে ভারত সরকার পুরোপুরি অবগত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির পুত্র অভিজিৎ মুখার্জি। দেশটির লোকসভার এই এমপি বলেন, বাংলাদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্যই আক্রমণ করা হচ্ছে। কারণ কিছু লোক সবসময় দেশবিরোধী। সেই বিরোধীরাই এগুলো করছে, যেন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশের সরকারের সম্পর্ক খারাপ হয়। কিন্তু তারা সফল হবে না। কারণ আমরা পুরো ব্যাপারটি জানি, পুরো ব্যাপারটিই বুঝি, কী জন্য এসব হচ্ছে।
রোববার দুপুরে রাজধানীর নিউ বেইলি রোডে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সুজিত রায় নন্দীর বাসায় মধ্যাহ্নভোজের নিমন্ত্রণে যোগ দিয়ে অভিজিৎ মুখার্জি এসব কথা বলেন।
প্রণবপুত্র বলেন, বাংলাদেশে যে খালি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোক মারা যাচ্ছেন তা নয়, মুসলিম ব্লগাররাও তো মারা যাচ্ছেন। সুতরাং এ বিষয়টি সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু অথবা সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে দেখলে চলবে না। যারা এগুলো করছে তারা অপরাধী। তারা দেশকে ভালবাসে না। তারা নিজের দেশেরই ক্ষতি করছে।
ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য অভিজিৎ বলেন, বর্তমানে কংগ্রেসের যে অবস্থান ভারতে, বাংলাদেশেও আওয়ামী লীগের একই অবস্থান। কারণ দুটি দলই দুটি দেশের স্বাধীনতা এনেছে, মুক্তি দিয়েছে, উন্নতি করেছে। ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী আর এখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, আমাদের জাতির পিতা যেমন ওখানে গুপ্তঘাতকের হাতে মারা গেছেন; এখানেও ঠিক তাই হয়েছে। কারণ কিছু লোক সবসময়ই বিরোধী। সেই বিরোধীরাই সাম্প্রতিক গুপ্তহত্যাগুলো ঘটাচ্ছে।
ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনে হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করাই এর উদ্দেশ্য। অভিজিৎ বলেন, আমি নিজে রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র। আমি জানি, রামকৃষ্ণ মিশনের সাধুরা-ছাত্ররা এসব ভয়টয় পান না। কারণ তারা সংসার ছেড়ে নির্ভীক হয়েই কাজ করতে এসেছেন। তবে কিছু-কিছু লোক দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক বিনষ্টে এসব করছে।
প্রণবপুত্র বলেন, আমাদের কাছে থাকা খবর অনুসারে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার এসব ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর। প্রতিটি ঘটনা ঘটার সঙ্গে-সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছে। তাই আমি রামকৃষ্ণ মিশনের ভক্তদের বলতে চাই, আপনাদের ভয় পাওয়ার কারণ নেই। আপনারা নিশ্চিন্তে যেভাবে সেবার কাজ করছিলেন সেভাবেই করে যান।
প্রায় দশ বছর আগে ঢাকায় এসেছিলেন অভিজিৎ মুখার্জি। এই দশ বছরে বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের এই সংসদ সদস্য বলেন, আগে এসে দেখেছি রাস্তায় অনেক জ্যাম হতো; কিন্তু এবার এসে দেখলাম অনেক ফুটওভারব্রিজ হয়েছে, ফ্লাইওভার হয়েছে, যানবাহন বেড়েছে। ওভার অল একটা বড় উন্নতি হয়েছে। তিনি বলেন, আমার সবচেয়ে ভালো লাগল এটা দেখে যে, এখানকার ভবনগুলো গ্রিন ভবন হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে, যা প্রকৃতিবান্ধব।
আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতাবশতই এবার চারদিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমার মা শুভ্রা মুখার্জি যখন মারা গিয়েছিলেন, তখন তিনি (শেখ হাসিনা) ছুটে গিয়েছিলেন। প্রচ- গরমের মধ্যেও তিনি শ্মশানঘাটে গিয়েছিলেন। এত বড় একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী ওখানে যাওয়ায় আমরা সম্মানিত বোধ করেছি। তাই আমার এখানে আসার ইচ্ছা ছিল। তাছাড়া বাবাও বললেন ঘুরে আসতে। এরপর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নিমন্ত্রণ পাঠানো হয়। সবমিলিয়েই এবারের বাংলাদেশ সফর।
নড়াইলের মামাবাড়ির স্মৃতি তেমন একটা মনে নেই অভিজিতের। তিনি বলেন, এবার নয়, পরের বার এলে একবার নড়াইল যাব। বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে বিনয়ের সঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রপতিপুত্র বলেন, আপনারা খুবই ভালো হোস্ট। যতটা আদরযতœ আমায় করেছেন, সম্মান দিয়েছেন, আমি অতটা সম্মানের অধিকারী নই, তারপরও আপনারা দিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রতি প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নতি আমরা দেখতে চাই। কারণ বাংলাদেশ যত ভালো করবে, প্রতিবেশী হিসেবে আমরাও ততো ভালো থাকব। কিছুটা নিজেদের স্বার্থেই আমাদের স্বাস্থ্যবান বাংলাদেশ দরকার। উন্নত বাংলাদেশ দরকার। আমি মনে করি, বাংলাদেশ তা পারবে। কারণ বাঙালিরা বীরের জাতি, তারা পাঠানদের সঙ্গে লড়াই করতে পারে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তা প্রমাণ হয়েছে।


