মাত্র ছয়দিন আগে যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে জন্ম হয় বুক জোড়া (এক হৃদয়) লাগানো জমজ দুই বোনের। মুখমণ্ডল, হাত, পা, কিডনি, যকৃতসহ অন্যান্য সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এক থাকলেও ওদের হৃদয় (হৃদপিণ্ড) ছিল একটি। বহু চেষ্টা চালিয়েও এই নবজাতকটিকে বাঁচানো গেল না। পৃথিবীর আলো বাতাস ভালো করে দেখার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো।
গত ১৬ জুন এক হৃদপিণ্ড নিয়ে জন্মগ্রহণ করা জমজ শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখতে উন্নত চিকিৎসা সহায়তা প্রদানে দু’হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান। ১৯ জুন তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়ে ওই জমজ নবজাতকটির সুচিকিৎসার জন্য যশোর থেকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। এরপর নবজাতককে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল মান্নানের অধীনে হাসপাতালে ভর্তি করান।
চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ভয়ে মিডিয়ার কাছ থেকে খবরটি গোপন রেখেছিলেন। ভেবেছিলেন জমজ শিশু দুটির শারীরিক অবস্থার একটু উন্নতি হলে তিনি সামগ্রিক চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করবেন।
জানা গেছে, জন্মের পর থেকেই শিশু দুটি হৃদরোগ ও রক্তে সেপসিসজনিত সমস্যায় ভুগতে শুরু করে। তাদের নবজাতক ও শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জোড়া লাগানো নবজাতক শিশুটির মৃত্যু হয়।
বিএসএমএমইউ’র জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রশান্ত মজুমদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
যশোর জেলার চৌগাছা থানার উজিরপুর গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর কামরুজ্জামান মন্টু ও রিনা খাতুন দম্পত্তির ঘরে জন্ম নেয় ওই জমজ শিশুটি। এ দম্পত্তির ঘরে আগে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তারা সকলেই সুস্থ।
চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির হৃদযন্ত্রে পিডিএ ও রক্তে সেসসিসজনিত সমস্যা ছিল। তারা নানাভাবে প্রচেষ্টা চালালেও আজ সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নবজাতকের মৃত্যু হয়।


