নাদাবিপত্রের জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর আবাসন পরিদফতরে ধরনা দিতে হবে না। অনলাইনেই নাদাবিপত্র পাওয়া যাবে।
সরকারি বাসার নাদাবিপত্র দিতে অটোমেশন ব্যবস্থা চালু করেছে আবাসন পরিদফতর। আন্তর্জাতিক সিভিল সার্ভিস দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক আলোচনা সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন নতুন এ ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন।
এ সময়ে মন্ত্রী তিনজন কর্মচারীর বাসার নাদাবিপত্র হস্তান্তর করেন। অনলাইনে আবেদন করে অনলাইনেই এ সেবা নিতে পারবে সরকারি চাকুরেরা।
কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারি বাসায় অবস্থান করলে বেতন থেকে তার বাসা ভাড়া কাটা যায়, বিদ্যুৎবিল দিতে হয়। অবসরের সময় এ সব কাগজপত্র আবাসন পরিদফতরের কাছে দিতে হয়। আবাসন পরিদফতর সবকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রত্যয়ন করে- এ কর্মকর্তা বা কর্মচারীর কাছে সরকারের কোন পাওনা নেই। এটাই হচ্ছে আবাসনের নাদাবিপত্র।
আবাসনের নাদাবিপত্র ছাড়া পেনশন অনুমোদন হয় না। এ নিয়ে অবসর গ্রহণকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের হয়রানি হতে হতো।
এ সময়ে জানানো হয়, অটোমেশন প্রক্রিয়ায় আবেদনকারী নিজ উদ্যোগে বাসা ভাড়া কর্তনের বিবরণী সংগ্রহ করে অনলাইনে আবেদন করতে পারবে। এ আবেদন করার পর এসএমএসের মাধ্যমে আবেদনের প্রাপ্তিস্বীকার করা হবে। আবেদনে কোন কাগজের ঘাটতি থাকলে তাও এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে কবে আবেদনকারী নাদাবিপত্র পাবেন সে বিষয়েও জানানো হবে।
এ সময় গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, জনপ্রশাসনের প্রধান কাজ জনগণের সেবা দেওয়া। এ লক্ষ্য সামনে রেখে দায়িত্ব পালন না করায় অনিয়মের জন্ম নেয়। ফলে জনগণ সেবা থেকে বঞ্চিত হয় এবং দেশও কাঙ্খিত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে না।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মজীবন শেষে সঞ্চিত অর্থ হিসেবে পেনশনের অপেক্ষায় থাকেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আর সে পেনশন পেতে নানা দফতরের নাদাবিপত্র বড় হয়রানি হিসেবে কাজ করে। আবাসন পরিদফতরের এ ব্যবস্থা অবসর গ্রহণকারীদের জন্য অনেক স্বস্তি বয়ে আনবে।
এ সেবা আন্তরিকতার সাথে পরিচালনার নির্দেশ দেন মোশাররফ হোসেন।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব মো. শহীদউল্লাহ খন্দকারের সভাপতিত্বে সভায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


