এসপি বাবুল আক্তারকে গভীর রাতে ‘গ্রেফতার’, ‘ছেড়ে দেয়া’, ‘স্ত্রী হত্যায় জড়িত ‘ স্বীকার’ করা এসবের পিছনে মূলত নাটের গুরু হিসেবে কাজ করছেন বাবুলেরই এক সময়ের চট্রগ্রামের সহকর্মী এক পুলিশ অফিসার।
ক্ষমতাসীনদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ওই পুলিশ কর্মকর্তাই হচ্ছেন এই ‘নাটকের’ মূল হোতা। তিনি বর্তমানে নবগঠিত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকায় কর্মরত ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা। এর আগে তিনি চট্টগ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ছিলেন।
তদন্তের এক পর্যায়ে মিতু হত্যায় বের হয়ে আসে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কয়েকজন নেতার নাম। সরকার বান্ধব হিসেবে পরিচিত দৈনিক যুগান্তরে এ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রকাশিত প্রতিবেদনের পরে বেকায়দায় পড়ে যায় ক্ষমতাসীনরা। হাত দেয়া হয় নাটকের নতুন প্লট লিখতে। এক্ষেত্রে এগিয়ে আসেন বাংলানিউজ২৪ বিশেষ সংবাদদাতা ও ওই পুলিশ কর্মকর্তার ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের সাংবাদিক রমেন দাশগুপ্ত। রমেন দাশ চট্টগ্রামে পুলিশ এবং অপরাধ বিষয়ে রিপোর্ট করেন। রমেনের সহযোগিতায় মূলত নাটকের ছক আঁকেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
মিতু হত্যায় সরকারী দল যুক্ত হওয়ায় উপরের নির্দেশে এ ঘটনার মোড় ঘোরাতে হাতে নেন স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিককে। রমেন তার ঘনিষ্ঠ ওই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে বাবুল আকতার ও তার নিহত স্ত্রীকে নিয়ে ‘পরকীয়া কেচ্ছা’ কাহিনী প্রচার করতে থাকেন। হত্যাকাণ্ডে বাবুলকে জড়িয়ে প্রথম খবর প্রকাশ করে বাংলানিউজ২৪ ডক কম। মাত্র কয়েক মিনিটে সেখানে তৈরি হয় একের পর এক নিউজ। চট্রগ্রামের ঘটনার প্রতি নজর রাখেন এমন একজন সাংবাদিক জানান, ‘বাবুল নাটকের’ সংবাদ প্রকাশের কয়েক মিনিট আগেও নিজের ফেসবুক টাইম লাইনে বিষয়টি নিয়ে স্ট্যাটাসও দেয় রমেন দাশগুপ্ত। পরে অবশ্য সেই স্ট্যাটাস মুছে দেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সালে এএসপি হিসেবে পুলিশ বিভাগে যোগদান করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। পিরোজপুরে জন্মগ্রহণকারী ওই পুলিশ কর্তা রাজশাহী বিআইটি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। দুই কন্যা সন্তানের জনক ওই পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী একজন চিকিৎসক।
এদিকে বাংলানিউজের এই খবর সম্পর্কে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাবুল আক্তারের শ্বশুর ও শ্যালিকা। তারা মানহানির মামলা এবং মানবাধিকার ও তথ্য কমিশনে নালিশ করবেন বলেও জানা গেছে।
আরও পড়তে পারেন:
o রাগে ফুঁসছেন এসপি বাবুল আক্তারের শ্বশুর


