স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যায় পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তার জড়িত কি না, সে প্রসঙ্গ এখনও আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেছেন, বাবুল আক্তার পুলিশের নজরদারিতে নেই। তিনি নজরদারিতে আছেন, আমরা কখনো বলিনি। বাবুল আক্তারকে দায়ী করা কিংবা বাবুল আক্তার জড়িত কি না, সে প্রসঙ্গ এখনো আসেনি।
মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দুপুর সাড়ে ১২টায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে হত্যা করেছে, বাবুলকে তাদের মুখোমুখি করা হয়েছিল। তিনি এদের চেনেন কি না বা হত্যার রহস্য কী, তা উদঘাটনেই এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। কারা তাকে হত্যা করেছে, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তা স্পষ্ট হয়েছে। যারা হত্যা করেছে, তাদের অনেককেই আমরা ধরে ফেলেছি। বাকিদের ধরার প্রক্রিয়া চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা ধৈর্য ধরেন। গোয়েন্দারা প্রতিবেদন দিক, তারপর আমরা সব বলতে পারব। আপনাদের কাছ থেকে একটু সময় নিচ্ছি আমরা।
উল্লেখ্য, গত ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর ও আর নিজাম রোডের বাসার অদূরে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে খুন হন মাহমুদা খানম মিতু। মোটরসাইকেলে আসা তিন হামলাকারী মিতুকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর থেকে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল, গত কয়েক বছরে চাকরিকালীন সময়ে চট্টগ্রামে জঙ্গি দমন অভিযানে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন মিতুর স্বামী এসপি বাবুল আক্তার। আর এ কারণে জঙ্গিদেরই টার্গেটে ছিলেন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা।
তবে ঘটনার দু’দিন আগে বদলিজনিত কারণে ঢাকায় আসেন এসপি বাবুল আক্তার। ঘটনার দিন ৫ জুন তার নতুন কর্মস্থলে যোগ দেয়ার কথা ছিল। আর এ দিনই ঘটে যায় মর্মান্তিক এ ঘটনা।
স্ত্রী খুন হওয়ার পর থেকে দুই শিশু ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় শ্বশুর বাড়িতে থাকছিলেন এসপি বাবুল আক্তার। তার শ্বশুর মোশাররফ হোসেন পুলিশের ওসি হিসেবে অবসরে যান। বাবা আবদুল ওয়াদদু মিয়াও পুলিশে চাকরি করেছেন।
গত শনিবার সকালে শ্বশুর মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘গতকাল শুক্রবার রাত ১টার দিকে তাদের বনশ্রীর বাসা থেকে বাবুল আক্তারকে নিয়ে যান খিলগাঁও থানার ওসি মঈনুল হোসেন ও মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার আনোয়ার হোসেন।’
তিনি বলেন, ‘আইজি সাহেব দেখা করতে বলেছেন বলে বাবুলকে ওরা নিয়ে গেল। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারছি না। যারা নিয়ে গেল তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।’
রাতে নিয়ে যাওয়ার প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর শনিবার বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে এসপি বাবুলকে বাসায় পৌঁছে দেয় পুলিশ।
এরপর থেকে ওই বাসার আশেপাশে পুলিশের কড়া নজরদারি চলছে। গত চার দিনেও এসপি বাবুল বাসা থেকে বের হননি। কারও সঙ্গে তিনি খুব একটা কথাও বলছেন না।
এর মধ্যে মিতু হত্যা ও বাবুলকে নিয়ে পরষ্পরবিরোধী নানা গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ছে। যা নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকেও পরিষ্কার কোনও বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না।



Leave a Reply