অবৈধ হাসিনা সরকার ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে বিএনপিকে ধ্বংস করার টার্গেট করেছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, “শেখ হাসিনা মনে করছে, বিএনপি ধ্বংস হলেই সে চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতার বন্দোবস্ত পেয়ে যাবে। কিন্তু এটা তার ভুল ধারণা। কারণ, এ দেশের জনগণ সব সময়ই গণতন্ত্রের পক্ষে।”
রমজানের ২২তম দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইস্কাটনের লেডিস ক্লাব মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর বিএনপির ইফতার মাহফিলে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন বেগম জিয়া। ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস এতে সভাপতিত্ব করেন।
সাম্প্রতিক সব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আওয়ামী লীগের লোকেরা জড়িত। আর এ কারণেই প্রকৃত অপরাধীরা ধরা পড়ছে না বলে অভিযোগ করেন বিএনপিপ্রধান। বলেন, ‘দেশের আজ কী অবস্থা তা আপনারা সবাই জানেন, বিশেষ করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছিল, যাতে দেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা হয় এবং সবাই ন্যায়বিচার পায়।’
‘কিন্তু দেশে আজ না আছে গণতন্ত্র, না ন্যায়বিচার, না আইনের শাসন। জনগণের জানমালের নিরাপত্তাও আজ চরম হুমকির মুখে। আজকে কারো জীবনই নিরাপদ নয়। যেকোনো মুহূর্ত যেকোনো জায়গায় যেকোনো ঘ্টনা ঘটতে পারে। এই হলো দেশের অবস্থা।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘এই যে কতগুলা ঘটনা ঘটল, বিদেশিরা মরল। এগুলোর একটার কাউকে ধরতে পারে নাই। যারা এই ঘটনাগুলা ঘটিয়েছে তাদের কাউকে ধরতে পারে নাই। কেন ধরতে পারে নাই? কারণ এই লোকগুলা কিন্তু তাদের। এই লোকগুলা তাদের ছিল। এবং কিংবা তাদের সমর্থক কেউ ছিল। যার জন্য তাদের হয়ে কাজ করে, যার জন্য এদেরকে ধরা হয় নাই। দেশি এবং বিদেশি মানুষকে দেখানোর জন্য, সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে কী হলো, বিএনপি এবং অন্যান্য দলের নেতাকর্মীদের ধরা হলো। সত্যিকারের অপরাধী যারা তাদের ধরুন, আমরা আপনাদের সহযোগিতা করতে চাই।’
জনগণের অধিকার ফেরাতে ঢাকা মহানগর বিএনপিকে আরো শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আজ মানুষের কোনো অধিকার নেই। তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঢাকা মহানগর বিএনপিকে আরো শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নগর বিএনপি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ হলেই কেবল আমরা জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনতে পারবো।’
মূলমঞ্চে খালেদা জিয়ার সঙ্গে একই টেবিলে বসে ইফতার করেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া; ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল আউয়াল মিন্টু, অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, এনাম আহমেদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী আবুল বাশার, সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক প্রয়াত নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর সহধর্মিণী নাসিমা আক্তার কল্পনা প্রমুখ।
২০ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী, কল্যাণ পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান সাহিদুর রহমান তামান্না, জাতীয় পার্টির (জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, বাংলাদেশ ন্যাপ ঢাকা মহানগরীর সভাপতি সৈয়দ শাহজাহান সাজু ও সাধারণ সম্পাদক শহীদুননবী ডাবলু, ইসলামী ঐক্যজোটের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শওকত আমীন, এনডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য মঞ্জুর হোসেন ঈসা, ন্যাপ ভাসানীর যুগ্ম মহাসচিব রুহুল আমিন, ইসলামিক পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান প্রমুখ।
বিএনপি নেতাদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ।
এর আগে, সন্ধ্যা ৬টা ৩৭ মিনিটে ইফতার মাহফিলে এসে উপস্থিত হন বেগম জিয়া। ইফতারের আগে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।


