ভারতের দিল্লি থেকে ৬ বছর আগে পাচার হয়ে বাংলাদেশে আসা শিশু সনু বৃহস্পতিবার তার বাবা-মায়ের কাছে ফিরছে। বরগুনার আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার তাকে নিজেদের জিম্মায় নিয়েছে ভারতীয় হাই কমিশন।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বরগুনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সনুকে গ্রহণ করেন ভারতীয় হাই কমিশনের প্রথম সচিব রমাকান্ত গুপ্ত। তবে আদালত চলমান মামলায় হাজির করার শর্তে তার জিম্মায় দেন সনুকে।
এদিকে, এ উদ্যোগী ও আন্তরিক ভূমিকা পালন করায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ মঙ্গলবার এক টুইট বার্তায় বাংলাদেশের নাগরিকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, সনু ৩০ জুন নাগাদ দিল্লি পৌঁছাবে।
২০১০ সালে, সনুর বয়ষ যখন পাঁচ বছর, তখন নয়াদিল্লি থেকে পাচার করে বরগুনার বেতাগীর গেরামর্দন গ্রামে আনা হয় সনুকে। পাচারকারীরা স্থানীয় হাসি বেগম নামের এক নারীর কাছে তুলে দেয় সনুকে। হাসি বেগম বিভিন্ন সময় সনুর ওপর অত্যাচার করতেন বলে অভিযোগ পেয়ে একই গ্রামের জামাল ইবনে মুসা সম্প্রতি সম্প্রতির তার প্রতিবাদ করেন এবং সনুকে মা-বাবার কাছে ফিরিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জামালের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করেন হাসি বেগম। এসব মামলায় জামাল দুই দফায় ১ মাস ১৯ দিন কারাভোগ করেন। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন জামাল। মামলা-মোকদ্দমায় পড়ে তার চাকরিটিও চলে যায়। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সনু হাসি বেগমের বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরে জামাল তাকে খুঁজে বের করে আদালতে তুলে দিলে আদালতের নির্দেশে পরে সনুকে যশোরের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
নিজের পয়সা খরচ করে জামাল গত ১৪ মে দিল্লিতে গিয়ে সনুর বাবা-মায়ের সন্ধান পান। জামাল গত ২১ মে সনুর বাবা মেহবুব ও মা মমতাজ বেগমকে নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে দেখা করে বিস্তারিত জানানোর পর বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সনুকে দেশে ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর মধ্যে ভারতীয় হাইকমিশনের উদ্যোগে পরীক্ষায় সনুর সঙ্গে তার বাবা-মায়ের ডিএনএ মিলে যায়।
মঙ্গলবার আদালতের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সনুকে বরগুনা জেলা জজ আদালতের সামনের চত্বরে আনা হলে সেখানে হৃদয়বিদারক এক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সনু ও জামাল একে অপরকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। জামাল বলেন, ‘আমার ওপর দিয়ে অনেক ঝড় গেছে। আজ সেই কষ্ট মুছে গেল। ওকে আমি ওর বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি। এর চেয়ে খুশি আমার জীবনে আর কী হতে পারে।’
সনু বলে, ‘যেদিন শুনেছি আমাকে বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হবে, সেদিন থেকে আমি বাবা-মাকে দেখার জন্য অপেক্ষায় আছি। তাদের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য আমি সবগুলো রোজাও রেখেছি।’



