বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

মিতু হত্যা: এসপি বাবুলের সোর্স মুছার ভাইসহ গ্রেপ্তার ২

mituএসপিপত্নী মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে চট্টগ্রামের পুলিশ। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য্য বলছেন, শুক্রবার ভোর রাতে নগরী থেকে শাহজাহান ও রাঙ্গুনিয়া থেকে সাইফুল ওরফে সাকু নামে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি বলেন, “এ ঘটনায় আগে গ্রেপ্তার ওয়াসিম ও আনোয়ার ১৬৪ ধারায় যে জবানবন্দি দিয়েছিলেন, তাতে বলা হয়েছিল শাহজাহান হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেন। আর সাইফুল এ মামলায় অন্যতম সন্দেহভাজন মুছার ছোট ভাই। মিতু হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি কিনতে সাইফুল সহায়তা করেছিল।”

শুক্রবার দুজনকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের ১০ দিনের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হবে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

মুছা ও শাহজাহান, রাশেদ, নবী ও কালু নামে মোট পাঁচজনকে এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন ঘোষণা করে বুধবার তাদের দেশ ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল পুলিশ।

এদের কয়েকজন আগে থেকেই পুলিশের হাতে রয়েছে বলে তাদের স্বজনরা সন্দেহ করলেও সিএমপি কমিশনার তাদের গ্রেপ্তারের খবর অস্বীকার করেন।

মিতু হত্যাকাণ্ডে মোতালেব মিয়া ওয়াসিম ও আনোয়ার হোসেনের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তারাসহ এই পাঁচজনও ‘সরাসরি জড়িত’ থাকার কথা এসেছে বলে পুলিশ বলছে।

মুছা ও শাহজাহানের সঙ্গে রাশেদ, নবী, কালুও ওই হত্যাকাণ্ডে ‘সরাসরি জড়িত’ ছিলেন বলে পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা।

ওয়াসিম ও আনোয়ারকে গত শনিবার গ্রেপ্তারের পর সিএমপি কমিশনার বলেন, ৫ জুন জিইসি মোড়ের কাছে মিতু হত্যাকাণ্ডে সাত-আটজন অংশ নিয়েছিল। তার মধ্যে ওয়াসিম গুলি চালান, আনোয়ার ছিলেন অনুসরণকারী।

তাদের জবানবন্দির ভিত্তিতে ওই হামলার ‘অস্ত্র জোগানদাতা’ এহতেশামুল হক ভোলা ও মনির হোসেন নামে দুইজনকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তারের কথা জানায় পুলিশ।

মিতু হত্যাকাণ্ডের তদন্তে মামলার বাদী পুলিশ কর্মকর্তা বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য শুরুতে জঙ্গিদের দায়ী মনে করলেও তদন্তকারীরা এখন বলছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পেশাদার অপরাধী।

পুলিশ বলছে, তাদের মধ্যে কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুছা রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মধ্যম ঘাগড়া গ্রামের বাসিন্দা শাহ আলম শিকদারের ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও ডাকাতির অন্তত আটটি মামলা রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মুছার বিরুদ্ধে ২০০১ সালে রাঙ্গুনিয়ায় সরকারি বন কর্মচারিদের ওপর হামলা করে গাছ ছিনতাইয়ের দুটি মামলা রয়েছে। একই থানায় ২০০৩ সালে তার বিরুদ্ধে দুটি ডাকাতি, একটি অস্ত্র ও একটি হত্যা মামলা হয়। ২০১৩ সালে তার বিরুদ্ধে ইমারত বিধিমালা আইনেও একটি মামলা হয়।

শাহজাহান একই উপজেলার ঘাগড়া কুল রানীর হাটের বাসিন্দা কবির আহমদের ছেলে।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *