বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

অগ্রণী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডিসহ ৩ ‘দুর্নীতিবাজ’ রিমান্ডে

Agrani-DMD+Mizanদুর্নীতির দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া অগ্রণী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান খানসহ ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে ব্যাংকটির ৭৯২ কোটি টাকা ঋণ বিতরণে অনিয়মের দায়ে ‘দুর্নীতিবাজ’ এমডি হামিদকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। দুপুরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ব্যাংকের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মিজানুর রহমান খানকে ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি নিয়োগ করে। কিন্তু বিকালেই দুর্নীতির দায়ে দুদকের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি।

দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার ঢাকার মহানগর হাকিম খুরশীদ আলম এই রিমান্ড আদেশ দেন।

বাকি দুইজন হলেন- ব্যাংকের অপর দুই কর্মকর্তা হলেন অগ্রণী ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. আখতারুল আলম ও সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. শফিউল্লাহ।

মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মুন গ্রুপকে ১০৮ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার মামলায় গতকাল বৃহস্পতিবার এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আদালত সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক বেনজীর আহমেদ আজ শুক্রবার আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

দুদকের সরকারি কৌঁসুলি কবির হোসাইন বলেন, দুদকের পক্ষ থেকে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মুন গ্রুপকে ১০৮ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।

মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মুন গ্রুপকে ১০৮ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার কারণে অগ্রণী ব্যাংকের এমডি সৈয়দ আবদুল হামিদ, ডিএমডি মিজানুর রহমান খানসহ আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গতকাল মামলা করে দুদক।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে নিজেরা লাভবান হয়ে এবং অন্যদের লাভবান করে প্রতারণা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন। রাজধানীর কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন ৫৫৫ নম্বর প্লটে মিজানুর রহমানের বৈধ মালিকানা ছিল না। মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে জমির মালিক শেখ মো. জয়নাল আবেদীন ও আমমোক্তারনামা সূত্রে দাবিদার তাঁর ছেলে শেখ মো. আবদুল গণির মামলা এখনো চলমান।

রাজউক অনুমোদিত বৈধ নকশাও ছিল না। বিতর্কিত ওই জমিতে নির্মাণাধীন একটি ভবনের অস্বাভাবিক নির্মাণ ব্যয় ও আয় দেখিয়ে মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মুন গ্রুপকে ১০৮ কোটি টাকা ঋণ দেয় ব্যাংক। মঞ্জুর হওয়া ঋণ থেকে পর্যায়ক্রমে ৯৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা তুলে নিয়ে ব্যাংক তথা রাষ্ট্রের ওই পরিমাণ অর্থ তাঁরা আত্মসাৎ করেন।

আরও পড়ুন