বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ঢাকা মেডিকেলে রোগ শনাক্তকরণ মেশিন দীর্ঘদিন ধরে ‘নষ্ট’

DMC_main+gateপ্রায় একমাস ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের রোগ শনাক্তকরণ ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স ইমেজিং (এমআরআই)। দুটি এক্সরে এবং আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিনও নষ্ট। যেন দেখার কেউ নেই। এ অবস্থায় সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি চরমে পেীছেছে। বাহিরে থেকে এমআরআই করাতে অনেক বেশি টাকা গুণতে হচ্ছে রোগীদের। আর রোগ শনাক্তকরণ ও সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন ক্যান্সার, টিউমার, রক্তক্ষরণ, সংক্রামণ, স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যাসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্তরা।

দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা রোগীদের পরীক্ষার নিরীক্ষার জন্য বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে এসব পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হচ্ছে। এর ফলে হাসপাতালের একশ্রেণীর দালালচক্র রোগীদের প্রলোভন দেখিয়ে নামমাত্র হাসপাতাল থেকে পরীক্ষার নিরীক্ষার নামে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এমআরআইয়ের ফি ৩ হাজার টাকা। বেসরকারি হাসপাতালভেদে এই ফি সাড়ে ৪ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। কোন কোন বেসরকারী হাসপাতালে এই ফি ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। হাসপাতালে প্রতিদিন ২-৩ জন রোগীকে বিনামূল্যে এই সেবা প্রদান করার বিধান রয়েছে।

নড়াইল থেকে পায়ের সমস্যার জন্য চিকিৎসা নিতে আসা মাকসুদা খাতুন জানান, মোটরবাইক এক্রিডেন্ট তার বাম পায়ের লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্থ হয়। হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসক তাকে সিটিস্ক্যান এবং এমআরআই করার পরামর্শ দেন। হাসপাতালে রেডিওলজি এন্ড ইমেজিং বিভাগে গিয়ে জানতে পারেন প্রায় মাসখানিক ধরে বন্ধ এমআরআই মেশিন। ফলে তাকে বাইরের কোন বেসরকারী হাসপাতাল থেকে এমআরআই করে নিয়ে আসতে বলা হয়। পরে শাওন নামের এক দালালের কাছে ৬ হাজার টাকা দিলে মনোয়ার ক্লিনিক নামে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে তার এমআরআই করিয়ে দেই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালতে প্রতিদিন প্রায় ৮ হাজার রোগীর সমাগম হয়। চাপ সামলানোর জন্য অন্তত তিনটি এমআরআই এবং তিনটি সিটি স্ক্যান মেশিন প্রয়োজন; কিন্তু আছে একটি করে। এমআরআই মেশিনটি দীর্ঘদিন যাবত নষ্ট। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ জন রোগীকে এই সেবা দেওয়া হতো। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এমআরআই কক্ষের সামনে তালা ঝুলানো রয়েছে। সাময়িক অসুবিধার কারণে এমআইআই বন্ধের নোটিশ টাঙ্গানো থাকলেও মাসব্যাপী তা বন্ধ রয়েছে।

রেডিওলোজি বিভাগের একাধিক সূত্র জানায়, এমআরআই মেশিনটি প্রায়ই বিকল হয়ে যায়। গত কয়েকমাসে ২ বার মেশিনটি বিকল হয়। এমআরআই এর পরীক্ষা নিরীক্ষা বাবদ প্রতিমাসে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা আয় হয়। মেশিনটি বন্ধ থাকার ফলে হাসপাতাল এই আয় বঞ্চিত হচ্ছে।

ঢামেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক ডা. খাজা আবদুল গফুর বলেন, এমআরআই মেশিনটি নষ্ট হওয়ায় রোগীরা সাময়িক ভোগান্তিতে পড়েছেন। ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *