রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি নামের রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা পাওয়া গেছে। ওই প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, গুলি করতে করতে দুজন রেস্তোরাঁয় ঢুকে। তখন তারা ‘আল্লাহু আকবর’ বলতে থাকেন।
গুলশানের ওই জঙ্গি হামলার ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন পুলিশ সদস্য। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং ওই রেস্তোরাঁর ফুড অ্যান্ড বেভারেজ শাখার কর্মকর্তা সুমন রেজা হামলার সময় রেস্তোরাঁর দোতলায় ছিলেন। তিনি বলেন, নিচতলা দিয়ে গুলি করতে করতে দুজন রেস্তোরাঁয় ঢুকে। তখন তারা ‘আল্লাহু আকবর’ বলতে থাকেন। এরপর আরও ৭-৮ জন অতর্কিত রেস্তোরাঁয় ঢুকে। তারা সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। তাদের একজনের হাতে ছিল তলোয়ার, বাকিদের কাছে ছিল আগ্নেয়াস্ত্র। এ সময় ওরা কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় বলেও জানান সুমন।
সুমন বলেন, ‘তিনি ওই সময় দোতলায় চলে যান। এরপর বন্দুকধারীরা দোতলার দিকে আসতে থাকলে তিনি ও তার একজন ইতালীয় সহকর্মীসহ ছাদে চলে যান। সেখান থেকে লাফিয়ে তারা বাইরে চলে যান। তিনি বলেন, ভেতরে জিম্মি অবস্থায় অন্তত ২০ জন বিদেশি নাগরিকসহ আরও কিছু বাংলাদেশি আছেন।’
সুমন রেজা বলেন, ‘ভেতরে থাকা আমাদের কর্মীরাও আছে, তারা ফোন ধরতেছে না। আমাদের স্টাফদের মধ্যেও আর্জেন্টাইন একজন কর্মীও ভেতরে আছেন।’
ঢাকায় গুলশানে হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা চালিয়ে দেশি বিদেশি নাগরিকদের জিম্মি করার ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে মধ্রপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস (ইসলামিক স্টেট)।
শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে (বাংলাদেশ সময়) আইএসের কথিত সংবাদ সংস্থা আমাক নিউজের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ এ খবর দিয়েছে।
এর আগে রাত একটার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপকমিশনার শেখ নাজমুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, বন্দুকধারীরা যে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সদস্য তা আপাতত মনে করা হচ্ছে। তবে তারা নির্দিষ্ট করে কোন গোষ্ঠীর সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
নাজমুল আলম বলেন, ভেতরে যারা জিম্মি হয়ে আছেন এখন পর্যন্ত তাঁরা অক্ষত আছেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।
নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন।
বাংলাদেশে নজিরবিহীন এই হামলার পর ওই বেকারিতে জিম্মি সঙ্কট তৈরি হয়েছে, আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন।
ঘটনার শুরু রাত পৌনে ৯টার দিকে; আট থেকে ১০ জন যুবক হঠাৎ সেখানে ঢুকে পড়ে এবং গুলি ও বোমা বিস্ফোরণ শুরু করে বলে বেকারির সুপারভাইজার সুমন রেজার তথ্য।
প্রায় আধা ঘণ্টা পর সেখানে পুলিশ উপস্থিত হলে শুরু হয় তুমুল গোলাগুলি। পুলিশ ওই বেকারিতে ঢোকার চেষ্টা করলে ভেতর থেকে গ্রেনেড ছোড়া হয় বলে একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান।
গুলশানের কূটনৈতিক পাড়ায় ৭৯ নম্বর রোডে হলি আর্টিজান বেকারি ও আশপাশের এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা।


