ঢাকার মার্কিন ও ভারতীয় দূতাবাসের সকল কর্মী নিরাপদে আছেন। এই দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জন কিরবি ওয়াশিংটনে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ঢাকার গুলশানে একটি রেস্তোরাঁয় বন্দুকধারীদের হামলার ঘটনায় কারা জড়িত তা এখনো জানা যায়নি। কী উদ্দেশ্যে তারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে সে সম্পর্কে এখনো তথ্য মেলেনি। তিনি পরিস্থিতিকে ‘এখনো পরিবর্তনশীল’ বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে ভারতের বেসরকারি টিভি চ্যানেল এডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঢাকায় তাদের দূতাবাসে সকল কর্মী নিরাপদে আছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমাদের হাই কমিশন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।’
ঢাকার গুলশানের রেস্টুরেন্টে জিম্মি সংকটের অবসান ঘটাতে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানাচ্ছে যৌথ বাহিনী। এই বাহিনীতে সেনা কমান্ডো, নৌ কমান্ডো, র্যাব, পুলিশ ও বিডিআর সদস্যরা রয়েছেন।
গুলশানের ওই জঙ্গি হামলার ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন পুলিশ সদস্য। নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন।
এই হামলার দায় স্বীকার করেছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)।
বাংলাদেশে নজিরবিহীন এই হামলার পর ওই বেকারিতে জিম্মি সঙ্কট তৈরি হয়েছে, আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন।
ঘটনার শুরু রাত পৌনে ৯টার দিকে; আট থেকে ১০ জন যুবক হঠাৎ সেখানে আল্লাহু আকবর বলে ঢুকে পড়ে এবং গুলি ও বোমা বিস্ফোরণ শুরু করে বলে বেকারির সুপারভাইজার সুমন রেজার তথ্য।
প্রায় আধা ঘণ্টা পর সেখানে পুলিশ উপস্থিত হলে শুরু হয় তুমুল গোলাগুলি। পুলিশ ওই বেকারিতে ঢোকার চেষ্টা করলে ভেতর থেকে গ্রেনেড ছোড়া হয় বলে একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান।
গুলশানের কূটনৈতিক পাড়ায় ৭৯ নম্বর রোডে হলি আর্টিজান বেকারি ও আশপাশের এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা।


