রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি নামের রাজধানীর গুলশানের এই রেস্তোরাঁটি বিদেশিদের কাছে জনপ্রিয়। কূটনৈতিক এলাকায় অবস্থান বলে বিদেশিরা ওই রেস্তোরাঁয় নিরাপদ বোধ করতেন। এ ছাড়া খোলামেলা সবুজ লন বিদেশিদের আকৃষ্ট করত।
ওই রেস্তোরাঁয় শুক্রবার রাতে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের দুই কর্মকর্তা নিহত হন। জিম্মি করে রাখা হয়েছে, অন্তত ২০ জন বিদেশি নাগরিকসহ আরও কিছু বাংলাদেশিকে।
জানা গেছে, রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি নামের ওই রেস্তোরাঁটির মালিক একজন বাংলাদেশি। ওই রেস্তোরাঁটি মূলত ইতালীয় পিৎজার জন্য বিখ্যাত। ওই রেস্তোরাঁয় লনটি বিদেশিদের জন্য পছন্দ হওয়ায় তারা প্রায় সেখানে খেতে যান। স্প্যানিশ ওই রেস্তোরাঁটির পাশেই পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার দূতাবাস এবং নরডিক ক্লাব।
হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংঘটন আইএস।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং ওই রেস্তোরাঁর ফুড অ্যান্ড বেভারেজ শাখার কর্মকর্তা সুমন রেজা হামলার সময় রেস্তোরাঁর দোতলায় ছিলেন। তিনি বলেন, নিচতলা দিয়ে গুলি করতে করতে দুজন রেস্তোরাঁয় ঢুকে। তখন তারা ‘আল্লাহু আকবর’ বলতে থাকেন। এরপর আরও ৭-৮ জন অতর্কিত রেস্তোরাঁয় ঢুকে। তারা সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে।
ঢাকার গুলশানের রেস্টুরেন্টে জিম্মি সংকটের অবসান ঘটাতে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানাচ্ছে যৌথ বাহিনী। এই বাহিনীতে সেনা কমান্ডো, নৌ কমান্ডো, র্যাব, পুলিশ ও বিডিআর সদস্যরা রয়েছেন।
গুলশানের ওই জঙ্গি হামলার ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন পুলিশ সদস্য। নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন।
এই হামলার দায় স্বীকার করেছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)।
বাংলাদেশে নজিরবিহীন এই হামলার পর ওই বেকারিতে জিম্মি সঙ্কট তৈরি হয়েছে, আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন।
ঘটনার শুরু রাত পৌনে ৯টার দিকে; আট থেকে ১০ জন যুবক হঠাৎ সেখানে আল্লাহু আকবর বলে ঢুকে পড়ে এবং গুলি ও বোমা বিস্ফোরণ শুরু করে বলে বেকারির সুপারভাইজার সুমন রেজার তথ্য।
প্রায় আধা ঘণ্টা পর সেখানে পুলিশ উপস্থিত হলে শুরু হয় তুমুল গোলাগুলি। পুলিশ ওই বেকারিতে ঢোকার চেষ্টা করলে ভেতর থেকে গ্রেনেড ছোড়া হয় বলে একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান।
গুলশানের কূটনৈতিক পাড়ায় ৭৯ নম্বর রোডে হলি আর্টিজান বেকারি ও আশপাশের এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা।


