ঢাকার কূটনৈতিক পাড়া গুলশানের একটি রেস্টুরেন্টে বন্দুকধারী জঙ্গিদের হাতে জিম্মি পরিস্থিতি ঘোচাতে যৌথবাহিনীর অভিযান শুরুর আগে ভেতরের রক্তাক্ত ছবি প্রকাশ করেছে জঙ্গি সংগঠন আইএস।
তাদের কথিত সংবাদ সংস্থা আমাক নিউজের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ শনিবার ভোর ছয়টার দিকে এই ছবি প্রকাশ করে।
এর আগে রাত একটার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপকমিশনার শেখ নাজমুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, বন্দুকধারীরা যে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সদস্য তা আপাতত মনে করা হচ্ছে। তবে তারা নির্দিষ্ট করে কোন গোষ্ঠীর সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
১১ ঘণ্টা জিম্মি সঙ্কটের পর সামরিক বাহিনীর কমান্ডো দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। শুক্রবার রাত পেরিয়ে যাওয়ার পর শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার পর এই অভিযান শুরু হয়। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া যায় ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ।
সাড়ে ৭টার পরপর সোয়াতের একটি দল একটি অ্যাম্বুলেন্স ঘিরে ওই রেস্তোরাঁ দিকে এগোতে থাকে। এর পর পর কয়েক দিক থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিত অভিযান শুরু করে।
শনিবার সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে সেনাবাহিনীর বড় পাঁচটি ট্রাক, ছোট জিপ ১০টি, নয়টি ট্যাংকের মতো দেখতে সাজোয়া যানসহ বিশাল বহর আসে।
এদিকে সেনাবাহিনী আসার কিছুক্ষণ পরই অর্থাৎ সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে মূল অভিযান শুরু করা হয়। সেনা সদস্যদের সঙ্গে অভিযানে অংশ নেয় নৌবাহিনীর কমান্ডো, বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবের বিশেষ বাহিনী।
অভিযান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রেস্টুরেন্টের ভেতর থেকে অস্ত্রধারীরা গুলি ছুড়ে। এসময় পাল্টা গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।
অস্ত্রধারীরা যাতে রেস্টুরেন্টের পাশে থাকা লেক দিয়ে পালিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য নৌ বাহিনীর একটি কমান্ডো টিম মোতায়েন করা হয়। সাথে থাকে ফায়ার সার্ভিসের টিমও।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবু বেলাল মো. শফিউল হক। সেই সঙ্গে আছেন বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহাম্মেদ খান। এছাড়া উপস্থিত থাকেন পুলিশের আইজি শহীদুল হক।


