বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

গুলশানে জঙ্গিরা রাতেই ২০ বিদেশিকে হত্যা করে: সবমিলিয়ে নিহত ২৮

Gulshan-holy-Artisanরাজধানী ঢাকার কূটনৈতিক এলাকা গুলশানের রেস্টুরেন্টটিতে শনিবার সকালে কমান্ডো অভিযানে ৬ বন্দুকধারী মারা পড়লেও জঙ্গিরা রাতেই বিদেশি ২০ জিম্মিকে হত্যা করে।

অভিযানে নিহত হয়েছে ৬ সন্ত্রাসী। যৌথ বাহিনীর অভিযানে সেখানে থেকে মোট ২০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে রাতেই হাসপাতালে মারা গেছেন ওসি সালাউদ্দিন এবং ডিবির এসি রবিউল ইসলাম।

শনিবার সকালে কমান্ডো অভিযানের পর দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান মিলিটারি অপারেশন্সের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাঈম আশফাক চৌধুরী।

শুক্রবার রাতে বন্দুকধারীরা হামলা চালানোর পর রাতভর ক্যাফেটি পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ঘিরে রাখার পর সকালে সামরিক বাহিনী যুক্ত হয়ে শুরু করে কমান্ডো অভিযান।

‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ নামের এই অভিযান সকালে ৭টা ৪০ মিনিটে শুরু হয়ে সকাল সাড়ে ৮টায় শেষ হয় বলে জানান ব্রিগেডিয়ার নাঈম।

তিনি বলেন, “প্যারা কমান্ডোরা ৭টা ৪০ মিনিটে অপারেশন শুরু হয়, ১২ থেকে ১৩ মিনিটের মধ্যে সকল অপরাধীকে নির্মূল করে সকাল সাড়ে ৮টায় অভিযানের সফল সমাপ্তি ঘটে।”

এরপর তল্লাশি চালিয়ে ২০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, “এদের সবাইকে রাতেই হত্যা করা হয়।”

ধারাল অস্ত্রের মাধ্যমে নৃশংসভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে জানান এই সেনা কর্মকর্তা।

নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে না পারলেও তারা সবাই বিদেশি বলে জানান তিনি।

সেনাবাহিনীর সদরদপ্তরে শনিবার বেলা দেড়টায় সংবাদ সম্মেলনে  ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাঈম আসফাক চৌধুরী জানান, অভিযানে একজন জাপানি, দুই শ্রীলঙ্কানসহ মোট ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর আহত। তাদের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় গুলশান ২ এর ৭৯ নম্বর সড়কে ৫নং বাসার দ্বিতীয় তলায় হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে হামলা চালায় কয়েকজন অস্ত্রধারী। রেস্টুরেন্টে প্রবেশের সময় তারা বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটায় এবং গুলি চালায়। এসময় পুলিশের সঙ্গে গুলিবিনিময় হয়। তখনই গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিন, ডিবির এসি রবিউল ইসলাম, পুলিশের দুই কনস্টেবল, একজন মাইক্রোবাসচালকসহ ২০ জনের বেশি। গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা গেছেন ওসি সালাউদ্দিন এবং এসি রবিউল।

আরও পড়ুন