কূটনৈতিকপাড়া ঢাকার গুলশান হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তীব্র সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।
শুক্রবার রাতে ওই হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) রাতেই ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে জঙ্গি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠী সাইট ইনটেলিজেন্স। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে দেয়া এক পোস্টে তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে বলেন, ঢাকা হামলার জন্য আইএস যখন দায় স্বীকার করেছে, প্রধানমন্ত্রী তখনও দেশে আইএসের উপস্থিতি নেই বলে তার দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন। গুলশানে হামলার ছয় ঘণ্টা পর তিনি ওই পোস্ট দিয়েছেন। এতে বলেছেন, কেন ছয় ঘণ্টা পরও জিম্মিদশার অবসান হয়নি।
এদিকে ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে শুক্রবার বলা হয়েছে, কেরালা রাজ্যে ইসলামিক স্টেটের শাখা আনসারুল খলিফা-কেরালা সংগঠনের ফেসবুক পেজে বুধবার তসলিমাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা।
বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত এই লেখিকা তার দ্বিখণ্ডিত ও লজ্জা নামে দুটি বই লিখে ব্যাপক তোপের মুখে পড়েন। এরপর ১৯৯৪ সালে দেশত্যাগে বাধ্য হন তিনি।
উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার পর গুলশান ২ এর ৭৯ নম্বর সড়কে ৫নং বাসার দ্বিতীয় তলায় হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে হামলা চালায় কয়েকজন অস্ত্রধারী। রেস্টুরেন্টে প্রবেশের সময় তারা বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটায় এবং গুলি চালায়। এসময় পুলিশের সঙ্গে গুলিবিনিময় হয়। তখনই গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিন, ডিবির এসি রবিউল ইসলাম, পুলিশের দুই কনস্টেবল, একজন মাইক্রোবাসচালকসহ ২০ জনের বেশি। গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা গেছেন এসি রবিউল ও ওসি সালাউদ্দিন।


