বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

হামলাকারীরা তালিকাভুক্ত জঙ্গি ছিল: পুলিশপ্রধান

IGP Rajarbag Police Lineগুলশানের রেস্টুরেন্টে সেনাকমান্ডোর নেতৃত্বে পরিচালিত যৌথ অভিযানে নিহত ৬ জনের মধ্যে ৫ জনই জঙ্গি হিসেবে পুলিশের তালিকাভুক্ত ছিল বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক। পুলিশ তাদের খুঁজছিল বলেও জানান পুলিশপ্রধান।

শুক্রবার গুলশানে ওই হামলায় নিহত পুলিশের সহকারী কমিশনার মো. রবিউল করিম ও বনানী থানার ওসি সালাউদ্দীন খানের জানাজা শেষে পুলিশ প্রধান একথা জানান।

রাতে গুলশান ২ নম্বরের হলি আর্টিজেন বেকারিতে একদল অস্ত্রধারী ঢুকে বিদেশিসহ বেশ কয়েকজনকে জিম্মি করে। সকালে কমান্ডো অভিযান চালিয়ে ওই রেস্তোরাঁর নিয়ন্ত্রণ নেয় নিরাপত্তা বাহিনী।

এ সময় ১৩ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। বের করা হয় ২০টি মৃতদেহ, যাদের অধিকাংশই বিদেশি নাগরিক। এ সময় কমান্ডোদের গুলিতে ছয় জঙ্গি নিহত হন। এছাড়া সেখান থেকে এক হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন।

আইজিপি বলেন, “অভিযানে নিহতরা তালিকাভুক্ত জঙ্গি ছিল।” তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের হামলার ‘দায় স্বীকারের’ পিছনে অন্য কারণ রয়েছে বলে সন্দেহ আইজিপির। বলেন, “কোনো হামলার ঘটনা ঘটলে আইএস দায় স্বীকার করে। আমেরিকায় হামলার ঘটনা ঘটলেও আইএস দায় স্বীকার করে। আইএসের দায় স্বীকারের লিংক খুঁজে বের করার চেষ্টা হচ্ছে।”

এর আগে বাংলাদেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের ওপর আরও কয়েকটি হামলায় আইএসের নামে দায় স্বীকারের খবর এলেও তা নাকচ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশীয় জঙ্গিরা এগুলো ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীর নাম দিচ্ছে।

রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে দুই পুলিশ কর্মকর্তার জানাজায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, “সারাদেশে ধারাবাহিক নাশকতার যে নীলনকশা তারই অংশ হিসেবে গুলশানে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।”

জঙ্গি নির্মূলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দেন তিনি। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ঐক্যমত গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন মন্ত্রী।

জানাজায় র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন