বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

প্রধান ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ ময়দান

eidgahআজ রোববার পবিত্র রমজানের ২৭তম দিন। আর দুই-তিন দিন পরেই পবিত্র ঈদুল ফিতর। প্রতি বছরের মতো এবারও জাতীয় ঈদগাহ মাঠে হবে দেশের প্রধান ঈদের জামাত। জাতীয় ঈদগাহে একসঙ্গে লক্ষাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদের জামায়াতের জন্য সুসজ্জিত করে প্রস্তুত করা হয়েছে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানকে। ইতিমধ্যে ৪৩ হাজার বাঁশ দিয়ে প্যান্ডেল তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এখানে রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারপতি ও কূটনীতিকসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে এক কাতারে নামাজ আদায় করবেন। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স পিয়ারু সর্দার অ্যাণ্ড সন্স ডেকোরেটরের ম্যানেজার মোজাম্মেল হক বলেন, ‘প্রায় ২ লাখ ৫৯ হাজার বর্গফুট আয়তন বিশিষ্ট জাতীয় ঈদগাহ ময়দানটি প্রস্তুত করতে গত ১২ রমজান থেকে ২৭ রমজান পর্যন্ত ১৫০ জন  দিন-রাত কাজ করেছে।

তিনি বলেন, ‘পুরো মাঠে বাঁশ দিয়ে প্যান্ডেল তৈরি্ ও ত্রিপল টানানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বৃষ্টিতে যাতে সমস্যা না হয়, সেজন্য ওপরে দেওয়া হয়েছে মোটা ত্রিপলের ছাউনি। পানি নিষ্কাশনের জন্য রাখা হয়েছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা।’

জাতীয় ঈদগায়ের সার্বিক বিষয়গুলো দেখাশুনা করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম বলেন, জাতীয় ঈদগাহ মাঠের চারপাশে আছে দেয়াল ও দেয়ালের ওপরে খাঁজকাটা লোহার গ্রিল। এ দেয়াল ও গ্রিলে লাগানো হয়েছে নতুন রং। ওজু করার জন্য পানির ট্যাপগুলোকে ঠিকঠাক করে লাগানো হয়েছে। ১৪০ জন মুসল্লি একসঙ্গে ওজু করতে পারবেন এখানে। মুসল্লিদের সুবিধার্থে ভ্রাম্যমাণ টয়লেট থাকবে ঈদগাহ মাঠে। মাজারের টয়লেট ব্যবহার করবেন ভিআইপিরা। ঈদগাঁহ মাঠে ৭০০ সিলিং ফ্যান, ৪৬০টি লাইট এবং ৫৪টি মেটাল লাইট লাগানো হবে।৬০ থেকে ৭০টি মাইক লাগানো হবে মাঠের বিভিন্ন প্রান্তে। ঈদগাহ মাঠের ফটক রাখা হয়েছে তিনটি। মূল গেট ছাড়াও দক্ষিণ পাশে ও মাজারের দিকে একটি গেট করা হয়েছে।

জাতীয় ঈদগাহর দক্ষিণ পাশে নারীদের ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য পর্দা দিয়ে আলাদা ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ৫ থেকে ৬ হাজার নারী এখানে নামাজ আদায় করতে পারবেন। কূটনৈতিক মিশনের সদস্য ও তাদের স্ত্রীদের নামাজের জন্যও আলাদা ব্যবস্থা  রাখা হয়েছে।

মুসল্লিদের নিরাপত্তা দিতে মাঠে তৈরি করা হয়েছে র‌্যাব এবং পুলিশের জন্য দুটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ।

নিরাপত্তার সাথে ঈদগাহ মাঠ ও এর আশপাশে লাগানো হয়েছে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরাসহ আধুনিক সরঞ্জাম। ঈদগাহ ময়দানের চারপাশে সার্বিক নিরাপত্তার দ্বায়িত্বে থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সিসি ক্যামেরায় থাকবে সার্বক্ষণিক নজরদারি। ভিআইপিদের জন্য ভেতরে প্রায় ৩ হাজার বর্গফুট জায়গা আলাদা নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে থাকবে।

আরও পড়ুন