বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

জঙ্গিদের ছেড়ে দেওয়া সেই ‘জিম্মিকে’ নিয়ে নানা সন্দেহ

hasnat karim NSUহত্যাযজ্ঞের মধ্যে জঙ্গিদের সঙ্গে হেঁটে হেঁটে সিগারেট ফুঁকতে থাকা এবং পরবর্তীতে যৌথবাহিনীর সামরিক অভিযানের কিছু সময় আগে অন্যদের সঙ্গে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিটিকে নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধছে।

সেই ব্যক্তির পরিচয় খুঁজতে গিয়ে দেখা গেছে, তিনি নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ফ্যাকাল্টি। তার নাম হাসনাত করিম।

ছেলের জন্মদিন পালন করতে সেদিন স্ত্রী, পরিবারসহ তিনি ওই রেস্তোঁরায় গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

সেদিনের অভিযান নিয়ে ফেসবুকে দক্ষিণ কোরীয় এক নাগরিকের প্রকাশিত ভিডিওতেও দেখা গেছে লোকটির বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এবং সন্ত্রাসীদেরথেকে দুরত্ব বলছে যে এই লোকটি এবং সন্ত্রাসীদের উভয়েরই পজেটিভ মুভমেন্ট এ আছে৷ (১নং ছবি)

– উনি জিম্মি অবস্থায় রিলাক্সভাবে আলোচনা করছেন সন্ত্রাসীদের সাথে- যা ভিডিওতে পরিষ্কার৷ (৩নং ছবি)

– যৌথ বাহিনীর অভিজান শুরুর ঠিক আগে উনি অন্য জিম্মির সাথে বের হয়ে আসছেন অত্যন্ত রিলাক্সভাবে (২নং ছবি)

– টাক মাথাওয়ালা ব্যক্তিটি হচ্ছেন হাসনাত করিম। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ফ্যাকাল্টির শিক্ষক (৪র্থ ছবি)

জিম্মি থাকা অবস্থায় একটি ছবিতে তাকে ছাদে ধূমপান করতে দেখা যায়। যখন তার পেছনে দুইজন আক্রমণকারী জঙ্গিকে দেখা যায়। আরেকটি ফুটেজে তাকেই দেখা যায় ক্যাফের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে। শেষ ফুটেজে তাকেই পরিবার এর সাথে বের হয়ে যেতে দেখা গেছে। সব জিম্মিরা যখন এই হামলায় আতংকিত তখন এই ব্যক্তির এতো নিশ্চিন্ত আচরণ ও গতিবিধি সন্দেহের সৃষ্টি করে।

হাসনাত করিমকে নিয়ে আশঙ্কাজনক তথ্য হলো ব্লগার থাবা বাবা ওরফে রাজীব হায়দার কে গলা কেটে হত্যা করার পর তদন্তে যাদের নাম উঠে আসে এবং গ্রেফতার করা হয়েছিলো তারা সবাই নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলো। ওই ঘটনায় হত্যাকারীদের সাথে এই হাসনাত করিমের সম্পৃক্ততা পাওয়া গিয়েছিল। গুলশানের সন্ত্রাসী হামলার সময় বা আগে থেকে নর্থসাউথের সেই হাসনাত করিমের ওই রেস্টুরেন্টে অবস্থান করা – এত সহজ আচরণ কি ভিন্ন কিছু ইঙ্গিত দেয়? এই প্রশ্নের উত্তর সময়ই বলে দেবে বলে অনেকেই মনে করছেন।

শনিবার উদ্ধার অভিযানের পর পরিবারকে সাথে নিয়ে জীবিত বের হয়ে আসা হাসনাত করিমের পিতা রেজাউল করিম জানান, “যারা কোরানের আয়াত বলতে পেরেছিল তাদেরকে সন্ত্রাসীরা ছেড়ে দেয়, যারা পারেনি তাদের অত্যাচার করে।”

হাসনাত করিমের স্ত্রী হিজাব পরায় তাদের সাথে হামলাকারীরা কোন খারাপ ব্যবহার করেনি এমনকি রাতে খেতেও দিয়েছিল বলে জানান রেজাউল করিম।

ঘটনাস্থল থেকে বের হয়ে আসার পর তাকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় বলেও জানিয়েছিলেন রেজাউল করিম।

রেজাউল করিমের বক্তব্য থেকেই জানা গেছে, হাসনাত করিম ২০ বছর দেশের বাইরে ছিলেন। ইংল্যান্ডে প্রকৌশল পড়াশোনার পর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে এমবিএ করেন। দেড় বছর আগে দেশে ফিরে আসেন তিনি।

হাসনাত করিম নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ফ্যাকাল্টি এই তথ্য জানার পর থেকে প্রশ্ন উঠেছে আরো অনেক। কারণ হামলাকারীদের মধ্যে একজন নিব্রাস ইসলামও নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র ছিল। সেক্ষেত্রে এই হামলার পরিকল্পনার পেছনে হাসনাত করিমের কোনও হাত আছে কিনা, কিংবা জীবিত ফিরে আসার পেছনে তিনি যে কারণ দেখিয়েছেন তা আদৌ সত্য কিনা তা যাচাইয়ের অপেক্ষা রাখে বলেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকের মতো।

দেখুন সেই ভিডিও:

https://youtu.be/wtEs3pkZe-0

আরও পড়ুন