ঢাকার গুলশানে জঙ্গি হানায় প্রাণ হারানো তারিশির মরদেহ সোমবার ভারতে ফিরবে। পরিবারের উপস্থিতিতে ফিরোজাবাদে সম্পন্ন হবে শেষকৃত্য, টুইটারে জানালেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।
পড়াশোনার উদ্দেশে দিন কয়েক পরই আমেরিকা রওনা দেওয়ার কথা ছিল ১৯ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক তারিশি জৈনের। তার আগে ছুটির মেজাজে শুক্রবার রাতে গুলশানের ওই অভিজাত রেস্তোঁরায় গিয়েছিল। তাতেই কাল হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করে জঙ্গিরা।
রবিবার টুইটারে সুষমা স্বরাজ জানান, তারিশির পরিবার বাবা সঞ্জীব জৈনের সম্মতি মিলেছে।
সোমবার ঢাকা থেকে দিল্লিতে বিমানে আনা হবে তার মরদেহ। উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাপুরে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। তারিশির দেহ দিল্লির পরিবর্তে আগ্রায় নিয়ে যাওয়ার আর্জি জানিয়েছেন আগ্রায় বসবাসকারী জৈন পরিবারের সদস্যরা। তারিশির মৃত্যুতে শোকাহত ভারতে বসবাসকারী তার আত্মীয়-স্বজনরা।
শিশির জৈন নামে তারিশির এক আত্মীয় জানিয়েছেন, সম্প্রতি পায়ে চোট পেয়েছিল তারিশি। চিকিৎসা করা সত্ত্বেও পুরোপুরি ব্যাথা যায়নি। সেই কারণেই হয়ত পালিয়ে বাঁচতে পারেনি সে।
শুক্রবারের হামলায় তারিশি ছাড়াও খুন হয়েছেন মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও দুই পড়ুয়া। আবিন্তা কবীর ও ফারাজ হোসেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এঁরা। একজনের মার্কিন নাগরিকত্ব রয়েছে।
আবিন্তা ও ফারাজ আটল্যান্টার ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। তাঁদের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
তাদের পরিবার পরিজনদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিলারি ক্লিন্টন।
হিলারি বলেন, সন্ত্রাস কোনও একটা দেশের সমস্যা নয়। বিশ্বের যে প্রান্তেই হামলা হোক না কেন, তার দায় আমাদের সকলের।
ঢাকা হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন প্রাক্তন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ও ফ্লোরিডার সেনেট সদস্য মার্কো রুবিয়োও। তিনি বলেন, প্রথমে প্যারিস, তারপর ব্রাসেলস এবং এখন ঢাকা। ইসলামের নামে হত্যালীলা চালাচ্ছে জঙ্গিরা।
রুবিয়োকে সমর্থ করেছেন আরেক প্রাক্তন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী টেড ক্রুজ। তাঁর মতে, গোলাগুলির মাধ্যমে গোটা বিশ্বে থাবা বসাচ্ছে সন্ত্রাস। এটা ঘুম ভেঙে ওঠার সময় নয়। সময় হয়েছে ভয়ঙ্কর হত্যালীলার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার।


