বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

চাঁদ রাতে কেনাকাটার ধুম

Chand Raat Shoppingবেশির ভাগ নগরবাসী চাঁদ রাতেই কেনাকাটা করতে পছন্দ করেন। বুধবার এই চাঁদ রাতে নগরীর মার্কেটগুলোতে লোকজনের সমাগম বেশ বাড়তি দেখা গেছে।

চাঁদ রাতে শপিং সেন্টারগুলোতে ভিড় কম হবে এমন আশায় শপিং করতে যান অনেকেই। তবে ভীড় কম থাকলেও ব্যবসায়িরা সুযোগ বুঝে বেশি দামেই পণ্য বিক্রির চেষ্টা করে। এবারও এর ব্যতিক্রম নয়। দীর্ঘ ছুটির কারণে কয়েকদিন প্রায় ফাঁকা ছিল শপিং সেন্টারগুলো। ফলে চাঁদ রাতকে কেন্দ্র করে বেশ ভালো দামেই বেচাকেনা করছে ব্যবসায়িরা। শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি মার্কেট ঘুরে এমনটিই জানা গেছে।

সরেজমিনে রাজধানীর পীরইয়ামিন, বায়তুল মোকাররম, মৌচাক, এলিফ্যান্ট রোড, নিউ মার্কেট, বসুন্ধরা, ইস্টার্ন মল্লিকা, রাজধানী মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ মার্কেটেই নারীদের পাশাপাশি পুরুষরা কেনাকাটায় ভিড় করছে। কয়েকদিন কেনাকাটার চাপ কম থাকলেও চাঁদ রাতকে কেন্দ্র করে ক্রেতা সমাগম যেমন হচ্ছে, তেমনি ব্যস্ততাও বাড়ছে দোকানিদের।

ব্যবসায়িদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানিয়েছেন, একদিকে ভারতের ভিসা প্রক্রিয়া এবার সহজ করে দেয়া হয়েছে অন্য দিকে লম্বা ছুটি। দুই মিলে এবার দেশের ঈদকেন্দ্রীক ব্যবসা খুব বেশি ভাল না। অনেক ক্রেতা ছুটিতে ভারত থেকে কেনাকাটা করে এসেছে। তাছাড়া যারা গ্রামে ‌ঈদ করছেন তারাতো আগেই চলে গেছে। ফলে ফাঁকা হয়ে গেছে রাজধানী। ব্যবসাও তেমন ভালো যাচ্ছে না। তবে আমরা চাঁদ রাতের অপেক্ষায় ছিলাম। প্রতিবারই চাঁদ রাতে আমাদের ব্যবসা ভালো হয়। ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত বেচাকেনা চলবে বলে জানান তারা।

তারা আরও জানান, চাঁদ রাতেই নগরবাসীরা কেনাকাটা করে থাকেন। বিশেষ করে ব্যবসায়ি, শিল্পপতি, সরকারের উচ্চপদস্থ আমলা, রাজনীতিক, অভিনেতা অভিনেত্রী, শিল্পী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিক্রয়কর্মী এসব শ্রেণি পেশার মানুষ যারা ঢাকায় ঈদ করবেন তারাই চাঁদ রাতে কেনাকাটা করতে সাচ্ছন্দ বোধ করেন। এই সময়ে বেচাকেনারও হিড়িক পড়ে। তবে এবার অন্যান্য বারের চেয়ে ক্রেতাদের পদচারণা অনেকটা কম।

বেইলি রোডে কেনাকাটা করতে আসা সিদ্ধেশ্বরীর বাসিন্দা ব্যবসায়ি ইকবাল হোসেন এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি বাংলামেইলকে বলেন, ‘সব সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সময় দিতে গিয়ে পরিবারকে সময় দেয়া হয় খুব কম। তবে এবার লম্বা ছুটি ছিল তবুও নিজের ব্যবসাতেতো আর ছুটি নাই। তাছাড়া আমরা যারা ঢাকায় ঈদ করি তারা মূলত চাঁদ রাতেই কেনাকাটা করি। অন্য সময় মার্কেটে প্রচুর ভিড় থাকায় তা এড়িয়ে চলি। ফলে আজ পুরো পরিবার নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছি।’

আলাপকালে এলিফ্যান্ট রোডের ব্যবসায়ি হারুন রশিদ বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠান ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত খোলা থাকবে। বিশেষ করে যারা পুরান ঢাকার বাসিন্দা তারা রাতে কেনাকাটা করেন। এছাড়া অনেকে সকাল বেলাও কেনাকাটা করতে আসে। এছাড়া বিপণী বিতানে কর্মরত বিক্রয়কর্মীরা চাঁদ রাতে বেতন বোনাস পায়। তারা গভীর রাতে বা ভোরে কেনাকাটা করেন।’

এদিকে অন্যান্য কেনাকাটার পাশাপাশি আতর, টুপি, জায়নামাজের দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের ভীড় তেমন লক্ষ্য করা যায়নি। তবে বায়তুল মোকারম মার্কেটে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানকার আতর, টুপি, জায়নামাজের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের জটলা।

বায়তুল মোকারমে আতরের ব্যবসায়ি মেসার্স আরাফাত আতর হাউজের সত্ত্বাধিকারী মো. ইয়াছিন জানান, কম দামের আতরের মধ্যে দুবাইয়ের হারামাইন আতর প্রতি ১৫ মি.লি  ৪৪০ টাকায়, সোদি আল  রিহাব কোম্পানির ৬ মি.লি ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকায়, ভারতের আল নাঈম কোম্পানির ৮ মি.লি বোতলের আতর ১৫০ টাকা থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশীয় ফারহান কোম্পানির আতর ৬ মি.লি ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকায়, আলিফ কোম্পানির আতর ১৫০ টাকায় থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তিনি বাংলামেইলকে বলেন, ‘চাহিদা সম্পন্ন সব কিছু কেনাকাটা করার পরই মানুষ আতর, টুপি, জায়নামাজ কিনতে আসে। কাল ঈদ হওয়াতে দোকানগুলোতে কাস্টমারের ভিড় অনেক বেশি থাকার কথা কিন্তু লম্বা ছুটিতে অনেকে রাজধানী ছেড়েছেন, তাই ভিড় তুলনামূলক কম।’

টুপির বাজার: এদিকে আতরের বাজারের পাশাপাশি টুপির বাজারেও ক্রেতা শূন্যতা লক্ষ্য করা গেছে। বাজারে দেশীয় টুপি ছাড়াও তুর্কি, পাকিস্তান, চায়না, ইন্ডিয়ান টুপি পাওয়া যায়। বাজারে দেশিয় টুপি ১৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।এছাড়া পাকিস্তানি সিন্দি টুপি ৫০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকায়, কাস্মির টুপি ২০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায়, জিন্নাহ ও নেয়ামত টুপি ১৫০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকায়, কাজ করা টুপি ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায়, স্টোন টুপি ১ হাজার টাকা থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অপরদিকে সৌদি আরবের বুগিস্ট টুপি ৬০০ টাকা থেকে ১৪০০ টাকায়, নরমাল টুপি ৪০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে অন্যান্য দেশের পাশাপাশি চায়নার ও ইন্ডিয়ান টুপিতেও বাজারে সয়লাব হয়ে গেছে। এর মধ্যে চায়না টুপি ১০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকায়, ইন্ডিয়ান বুড়ি টুপি ১২০০ টাকা থেকে ১৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জায়নামাজ: দেশের বাজারে বেশির ভাগ তুর্কির জায়নামাজ পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া পাকিস্তানি, চায়না জায়নামাজ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।তুর্কি জায়নামাজ ৩৫০ টাকা থেকে ১২০০ টাকায়, পাকিস্তানি জায়নামাজ ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকায়, চায়না জায়নামাজ ১২০ টাকা থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়িরা জানিয়েছেন বাহারি ডিজাইনের তুর্কি জায়নামাজই ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। এ কারনে তুর্কির জায়নামাজ অন্যন্যের চেয়ে বিক্রি ভালো। তুর্কির আয়ডিন কোম্পানির জায়নামাজ সবচেয়ে ভালো মানের বলে জানান ব্যবসায়িরা। এ কোম্পানির জায়নামাজ ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তারা। এছাড়া পাকিস্তানের শাহীন কোম্পানির জায়নামাজ ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মৌচাক মার্কেটের লক্ষ্মীপুর ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী কাওছার আহমেদ জানান, বাহারি ডিজাইনে তুর্কির জায়নামাজ বাজারে আমদানি করা হচ্ছে। এসব জায়নামাজ ক্রেতাদের পছন্দ। তাছাড়া পাকিস্তানের একটি কোম্পানি কয়েকটি ডিজাইনের জায়নামাজ উৎপাদন করে। ক্রেতাদের দ্বিতীয় পছন্দের তালিকায় পাকিস্তানের জায়নামাজ বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন