দেশের সর্ববৃহৎ ঈদের নামাজের মাঠে দুর্বৃত্তরা আকস্মিকভাবে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের লক্ষ করে হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটায় এবং পরবর্তীতে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তদের নিবৃত্ত করতে পুলিশ পাল্টা গুলি ছুড়লে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে এক পুলিশ সদস্য নিহত হন। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।
এর আগে সকাল ৯টার দিকে শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতে ইমামতি করতে স্থানীয় সার্কিট হাউসে পৌঁছান আল্লামা ফরিদ উদ্দীন মাসঊদ। ঈদগাহর পথে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়ার সময়ই খবর আসে ঈদগাহর প্রবেশপথে বোমাহামলা হয়েছে। এতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সেখানে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়নি। প্রধান ইমামের অনুপস্থিতিতে আর একজন ইমাম ঈদের নামাজে ইমামতি করেন।
আল্লামা ফরিদ উদ্দীন মাসঊদের ব্যক্তিগত সহকারী আবদুল্লাহ শাকের জানিয়েছেন, ‘হুজুর (আল্লামা ফরিদ উদ্দীন মাসঊদ) সার্কিট হাউসে অবস্থান করছেন। তিনি নিরাপদে আছেন।’
হামলায় গুরুতর আহত ৭ পুলিশ সদস্যকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
সোয়া ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশাররফ হোসেন বাংলামেইলকে বলেছেন, ‘এখনও গোলাগুলি চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি ও র্যাব কাজ করছে।
গুলশান হামলার রেশ না কাটতেই ঈদের সকালে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাতের মাঠে পুলিশ সদস্যদের ওপর বোমা হামলায় এক পুলিশসহ ২ জন নিহত এবং আরও অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
জানা গেছে, কিশোরগঞ্জে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম ঈদগাহ ময়দানের প্রবেশ পথে টহল পুলিশের ওপর বোমা হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। একে পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের গুলি বিনিময় শুরু হয়। এতে নিহত হন জহিরুল ইসলাম নামে পুলিশের এক কনস্টেবল। নিহত সন্ত্রাসীর নাম জানা যায় নি।
এ ঘটনায় আহত হয়েছে কমপক্ষে ১০ পুলিশ সদস্য। তবে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে সেখানে ঈদের জামাত হয়েছে কিনা সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য মিলছে না।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার আগে আগে শেলাকিয়া মাঠের সোয়া কিলোমিটার দূরে আজিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ফটকের কাছে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে কিশোরগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (সদরদপ্তর ) ওবায়দুল হাসান জানান।
এ ঘটনায় শোলাকিয়া মাঠের জামাতে অংশ নিতে জড়ো হওয়া লাখো মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। অবশ্য পরে নির্বেঘ্নেই ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান।
ওবায়দুল হাসান শোলাকিয়া থেকে বলেন, “কিছুর বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। তবে এখনও সব কিছু স্পষ্ট নয়।”
হামলার পর পুলিশসহ ১৩ জনকে কিশোরগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে জহুরুল হক (৩০) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলকে মৃত ঘোষণা করা হয় বলে ডেপুটি সিভিল সার্জন হাবিবুর রহমান জানান।
শোলাকিয়া মাঠে উপস্থিত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন খানও এ সময় হাসপাতালে ছুটে যান।
পরে আহতদের মধ্যে ছয় পুলিশ সদস্যকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে ডেপুটি সিভিল সার্জন জানান।


