বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

শোলাকিয়ায় হামলা: নিহত আনসারুলের বাড়িতে শোকের মাতম

police_ansarul_18523_1467902812কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের তল্লাসির সময় নিহত পুলিশ কনস্টেবল আনসারুল হকের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

নিহত আনসারুলের বাড়ি নেত্রকোণার মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে।

বৃহস্পতিবার বিকালে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে ময়মনসিংহ পুলিশ লাইনে তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

সরেজমিনে দৌলতপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কনস্টেবল আনসারুলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। লাশ আসার খবরে তার বাড়িতে ভিড় করেছেন শত শত মানুষ। এর মধ্যেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে বিলাপ করছিলেন আনসারুলের স্ত্রী ও মা। তারা বলছিলেন, পরিবারের উপার্জনক্ষম একমাত্র সদস্যকে হারিয়ে এখন তারা কিভাবে বেঁচে থাকবেন।

গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহত আনসারুল দৌলতপুর গ্রামের মৃত সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়।  বাবা সিদ্দিকুর স্থানীয় বাস্তা আলিয়া মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ছিলেন।

আনসারুল তিয়শ্রী এনএইচ খান একাডেমী থেকে ২০০৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায়  উত্তীর্ণ হন। পরে ২০০৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন।

পুলিশে যোগ দেয়ার পরের বছর ২০০৭ সালে কেন্দুয়া উপজেলার পাচহার কোণাপাড়া গ্রামের লুনা আক্তারকে বিয়ে করেন তিনি। তারা নিঃসন্তান দম্পতি ছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে শোলাকিয়া ঈদগাহের প্রবেশ মুখে আজিমুদ্দিন হাইস্কুল সংলগ্ন রেলক্রসিং এলাকার ধোপাবাড়ি মোড়ে চেকপোস্টে পুলিশের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।

এতে আনসারুলসহ পুলিশের দুই সদস্য, একজন হিন্দু নারী ও এক হামলাকারী নিহত হন। এছাড়া আহত হন আরও অন্ততঃ ১২জন। এদের মধ্যে আটজনই পুলিশ সদস্য।

চেকপোস্টে দায়িত্বরত অন্য এক পুলিশ জানান, আজিমুদ্দিন হাইস্কুল সংলগ্ন রেলক্রসিং এলাকার ধোপাবাড়ি মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে তারা তল্লাশি করছিলেন। এমন সময় ৫-৬ জন যুবক ঢোকার চেষ্টা করে। তাদের তল্লাশি করা কথা বললে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় তারা। পরে আনসার উল্লাহকে কোপায় তারা।

ময়মনসিংহ গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমারত হোসেন জানান, হামলাকারীরা প্রথমে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনায়। পরে আনসার উল্লাহকে কোপায় তারা।

এদিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, আনসার উল্লাহর পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মাথায়ও  কোপানোর দাগ দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন