রাজধানীর উত্তরায় ট্রপিক্যাল আলাউদ্দিন টাওয়ারে আগুনে দগ্ধ এগারো বছরের শিশু মেহনাজ হাসান মাইশাও চলে গেল। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের এইচডিইউতে (হাই ডেফিসিয়েন্সি ইউনিট) দুই সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শুক্রবার হেরে গেল মাইশা।
তারা বাবা ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুল হাসান রিপন ঘটনার পরদিনই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
চোখের সামনে বাবার মৃত্যু দেখে মাইশা বলেছিল, ‘আব্বু তুমি চোখ বন্ধ কর না’। এ ঘটনায় মাইশার ভাই মুনতাকিনও দগ্ধ হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শংকর পাল জানান, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে মাইশা নামের ১০ বছর বয়সী শিশুটির মৃত্যু হয়। তাকে নিয়ে মোট সাতজনের মৃত্যু হল উত্তরার ওই দুর্ঘটনায়।
তিনি জানান, মাইশার শরীরের ৫৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। একই দুর্ঘটনায় দগ্ধ তার আট মাস বয়সী ছোট ভাই মোস্তাকিমও এখানে চিকিৎসাধীন। তার শরীরের ২৩ শতাংশ পুড়েছে। সাধারণত কোনো শিশুর শরীরের ১০ শতাংশ পুড়লেই তা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়
গত ২৪ জুন উত্তরার আলাউদ্দিন টাওয়ারের লিফট ছিঁড়ে আগুনের সূত্রপাত হলে সেই আগুনে দগ্ধ হন প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান রিপন ও তার দুই সন্তান মেহনাজ হাসান মাইশা ও নয় মাসের শিশুপুত্র মুনতাকিন হাসান।
সেদিনই তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরদিন ভোরে ৮৮ শতাংশ বার্ন হওয়া মাহমুদ মারা যান।


