বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

হে আল্লাহ, বিপথগামীদের হেদায়েত দাও নইলে ধ্বংস কর

Baitul Mukarramপ্রায় ৬ মিনিট দীর্ঘ মোনাজাতে মসজিদে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। খানিক পরপর শুধু ভেসে আসে…

সম্প্রতি বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলায় সর্বত্রই আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত ১ জুলাই গুলশানে জঙ্গি হামলার পর বৃহস্পতিবার শোয়ালাকিয়া ঈদগাহ মাঠেও হামলা হয়। এছাড়া ধর্মের দোহাই দিয়ে হিন্দু,খ্রিস্টান বা অন্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলার ঘটনা নিত্যকার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব প্রেক্ষাপটে শুক্রবার সারাদেশের মসজিদে বিশেষ দোয়া করা হয়। দোয়ার আয়োজন করা হয় বাংলাদেশের প্রধান ও জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মোনাজাতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম মাওলানা মহিবুল্লাহ আল বাকী দোয়া পাঠ করেন।

দোয়ায় তিনি বলেন, ‘হে আল্লাহ, আমাদের দেশটাকে হেফাজত করো, আমরা শান্তিতে বসবাস করতে পারি সেই তৌফিক দান কর, আমাদের যেসব কলিজার টুকরা সন্তান বিপদগামী হয়েছে, তাদের হেদায়েদ দান কর, তুমি যদি হেদায়েত দান না করে, তাদেরকে তুমি ধ্বংস করে দাও। এই দেশের মানুষ শান্তিতে থাকুক, সেই তৌফিক দান করে দাও।’

প্রায় ৬ মিনিট দীর্ঘ মোনাজাতে মসজিদে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। খানিক পরপর শুধু ভেসে আসে আমিন, ছুম্মা আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন ধ্বনি। পেশ ইমাম মাওলানা মহিবুল্লাহ আল বাকী তার কণ্ঠে জুমার নামাজে অংশ নেয়া মুসল্লিরা দুহাত তুলে দোয়ায় অংশ নেন। মোনাজাত চলাকালে অশ্রুসিক্ত নয়নে সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকট নিজেকে সঁপে দিয়ে পানা চান মুসল্লিরা। সবাই নিজের ভুলগুলো স্বীকার করে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
মোনাজাতকালে ইমাম মাওলানা মহিবুল্লাহ আল বাকী বলেন, ‘হে আল্লাহ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবরে শায়িত আছেন, আমাদের ময়মুুরব্বি, আমাদের বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজনরা কবরে শায়িত আছেন, তাদের জীবনের গুনাখাতা মাফ করে দাও, কেয়ামত পর্যন্ত তাদের মাফ করে দাও। আল্লাহ কেয়ামত পর্যন্ত সকল মুসলমানের কবরের আজাব তুমি মাফ করে দাও। তাদের কবর তুমি জান্নাতের বাগিচা বানিয়ে দাও।’

তিনি আরো বলেন, ‘হে আল্লাহ ইসলামী দেশগুলোতে বিশৃংখলা সৃষ্টি হয়েছে, তুমি ওই দেশগুলোতে শান্তি ফিরিয়ে দাও। ইসলামী রাষ্ট্রগুলোকে রক্ষা করো। হে আল্লাহ আমাদের দেশকে রক্ষা করো। শান্তিতে বসবাস করতে পারি সেই তৌফিক দান করে দাও।’ এসময় মুসল্লিরা আমিন আমিন কবলতে থাকেন।
বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লি সৃষ্টি গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ নিজাম বলেন, ‘একটা আতঙ্কতো আছেই। কোনো সময় কি হয়ে যায় বলা যায় না। পরপর দুইটি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে, উৎকণ্ঠা থাকলেও বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজ আদায় করেছি। মোনাজাতে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করেছি, আমাদের দেশটা যেন শান্তি থাকে। সবাই মিলে মিশে থাকতে পারি।’ তিনি বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত অভিমত হচ্ছে, এখানে (বায়তুল মোকাররমে) যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে, তার চেয়ে আরো বেশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’

অপর মুসল্লি আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছি, আমরা যেন এই সন্তাসী হামলা থেকে রক্ষা পাই। আমরা যেন স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারি।’

এদিকে তুলনামূলক ঈদের পরদিন জুমার নামাজে মুসল্লির সংখ্যা ছিল খুবই কম। মসজিদের ভিতরে অনেক খালি ছিল। শুক্রবার সকাল ১১টা থেকেই বায়তুল মোকাররমের তিনটি প্রবেশ পথে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় আইনশৃংখলা বাহিনী। যেকোনো ধরনের নাশকতার আশংকায় এই নিররাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়।

আরও পড়ুন