বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

‘আমার শাওন জঙ্গি নয়’

Shaoner-ma20160709103135রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে হামলার ঘটনায় আটক সন্দেহভাজন জাকির হোসেন শাওন শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

শনিবার শাওনের মা মাসুদা বেগম জানান, ‘পোলাটা কাউরে চিনতো পারতো না। হ্যার চেহারা দ্যাহন যাইতো না। হাত-পা সব ফোলা দেখছি। আমার পোলাডা জঙ্গি ছিল না। নিরপরাধ পোলার লগে এইডা কী করল? শরীরের কোনো জায়গা মাইরের বাকি নাই।’

শনিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গের সামনে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় পাশে ছিলেন শাওনের ছোট বোন সাদিয়া আক্তার সোনিয়া ও তার বাবা আব্দুস সাত্তার।

গত ১ জুলাই রাজধানীর গুলশান-২ এর হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলায় দেশি-বিদেশি নাগরিক ও পুলিশসহ ২২ জন মারা যান। পরদিন কমান্ডো অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নেয় সশস্ত্র বাহিনী। সে সময় ছয় সন্দেহভাজন অস্ত্রধারী নিহত হয়।

১ জুলাই রাতেই কয়েক ঘণ্টা পর রক্তাক্ত অবস্থায় জাকির হোসেন শাওন নামে ওই তরুণকে আটক করে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ পাহারায় শাওনকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক)। শাওন এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঢামেকে মারা যান।

ঢামেক ফাঁড়ি পুলিশের এএসআই সেন্টু চন্দ্র দাশ জানান, ময়নাতদন্ত শেষে শাওনের মরদেহ ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়েছে। থানা পুলিশের ছাড়পত্র পেলেই তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

শাওনের মা মাসুদা বেগম বলেন, ‘আমি বাবা পিঠা বানায়ে বিক্রি করি। ২/৪ টাকার লাভের দোকান বাদ দিয়া খাওন ছাইড়া ছেলের লাশের জন্য ঘুরছি। ছোট তিনজন ভাই ও বিবাহিত বোন ওর। শাওনের বাপ আগে রিকশা চালাইত, এখন অক্ষম। শাওন মাসে ৪ হাজার করে টাকা দিতো এখন কে আমাগো সাহায্য করবে।’

তিনি বলেন, ‘শাওন নিরপরাধ ছেলে। এক বছর আগে ছোট ভাই আব্দুল্লাহর সহযোগিতায় ওই রেস্টুরেন্টে কিচেনের হেলপার হিসেবে কাজ নেয়। ওখানেই থাকতো ওখানেই খেতো। ওই হামলার রাতে রেস্টুরেন্টেই ছিল শাওন। শাওনও হামলার শিকার হয়। কিন্তু পুলিশ ওকে সন্দেহ করে নির্যাতন করে।’

শুক্রবার দুপুর থেকে নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দিয়ে হাসপাতালে ঘুরছেন বাবা আব্দুস সাত্তার। হাড্ডিসার চেহারা নিয়ে অভুক্ত বাবার মুখে আর কথাও যেন আসছিল না।

মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘গরিবের লাই সব কিছু না। এইহানে আইসা বেশি টের পাইলাম। ছেলেরে জঙ্গি বানানোর চেষ্টা করছে, নির্যাতন করছে। এহন মইরা যাওনের পরেও লাশটাও দিতাছে না। আমরা এহন কি করুম। কার কাছে যামু। পোলাডারে আমরা দাফন করবার চাই।’

ছোট বোন সায়িদা আক্তার বলেন, ‘শুক্রবার শাওনের নাকে-মুখে রক্ত বের হচ্ছিল, কাঁপুনি দিচ্ছিল। দুপুরেই মারা যায়। ডাক্তাররা ভাল চিকিৎসা করছে কি না বলতেও পারছি না। শাওনকে ব্যাপক নির্যাতন যে করা হয়েছিল তা সবারই জানা। আমরা গরিব মানুষ। কিছু করার নাই। ভাইয়ের লাশটাও এখন পাইতাছি না। মর্গ থেকে কয় এক কথা পুলিশ কয় আরেক কথা।’

হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টের হিসাবরক্ষক আরিফ হোসাইন বলেন, ‘শাওনের মরদেহ কেন হস্তান্তর করা হচ্ছে না তার কারণ খুঁজে পাচ্ছি না। শাওন জঙ্গি ছিল না। সে এই রেস্টুরেন্টের কিচেনের হেলপার হিসেবে কাজ করতো।’

আরও পড়ুন