বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ইংলিশ রোডের নিষিদ্ধ সেই পতিতালয় ও এখনকার জামায়াত

Opurbo Chowdhuryঅপূর্ব চৌধুরী।

এক সময়ে ঢাকা শহরে একটি পতিতালয় ছিল ৷ নাম ইংলিশ রোড৷ পুরান ঢাকায়৷ অনেক পুরোনো পতিতালয় এটি৷ নব্বইয়ের পর জেহাদি জোশের কিছু মোল্লা এলাকাবাসীকে একত্র করে পতিতালয়টি ভেঙে দিলো৷ বিপন্ন পতিতারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেলো শহরের এখানে ওখানে ৷ পেটের দায়ে রমনা পার্ক, সরোয়ার্দী উদ্যান কিংবা তদকালীন গুলিস্তানে দশ টাকায়ও ঢাকা শহরের ভদ্র লোকেরা তাদের খরিদ্দার হতো৷ আগে জীবাণুটি একটি চিহ্নিত এলাকায় ছিল, ঘের দেয়া ছিল, এলাকার ছেলে মেয়েরাও খারাপ পাড়া জানতো বলে এড়িয়ে চলতো৷ মুখোশের ভদ্রলোকেরা লুকিয়ে ছাপিয়ে হালকা পাতলা গেলেও এখন হাত বাড়ালেই দশ টাকায় তাদের পাওয়া যায়৷ রাতের বেলায় তাদের বলা হতো ‘নিশি কইন্যা’৷

নব্বইয়ের পর বিনপির কাঁধে চড়ে এবং বিএনপির ভিতর ঢুকে বাংলাদেশের রাজনীতির বিষফোঁড়া জামাতে ইসলামী এবং তার ছাত্র চেলা বাহিনী ছাত্রশিবির প্রথমে জাতীয়তাবাদী দলটাকে ভিতরে ভিতরে খেয়ে ফেলেছিলো৷ এখন বিষধর সাপটি আওয়ামী লীগের ভিতর ঢুকে আওয়ামীদেরও খাচ্ছে৷ এই অজগর সাপদের কাছে মানুষ, পৃথিবী এবং দেশের চেয়ে বেহেস্তি হুর অনেক আকর্ষণীয় ৷ এরা যা খুশি করতে পারে৷

জামাতকে প্রকাশ্যে রেখে রাজনীতি করতে দিলেই চিহ্নিত শত্রুকে চোখে চোখে নিয়ন্ত্রণ করা যেত৷ অত্যাচার আর নিষিদ্ধের পথ বেছে নিলে তারা আন্ডার গ্রাউন্ডে চলে গিয়ে ধ্বংসের জীবাণু ছড়াবে, এই ভয় এবং সতর্ক বাণীই মার্কিনিরা বর্তমান সরকারকে বারবার বলেছিলো৷ চুয়াত্তুরে জাসদ দমনের ভুল রাজনীতি যেমন একটি শিশু রাষ্ট্রকে উঠে দাঁড়াতে দেয় নি, ঠিক এবার আওয়ামী ভুল রাজনীতিও অর্থনৈতিক প্রবৃত্তি লাভ করা একটি মধ্যম আয়ের দেশের সামাজিক অস্থিরতা ভুল দিকে নিয়ে যাচ্ছে৷ সম্প্রতি গুলশান ঘটনা এই ভুলের খেসারত৷ সামনে আরো রক্তাক্ত পথ৷

উপমহাদেশে রাজা জমিদারদের যৌন ক্ষুধা মেটাতো বাইজিরা৷ তারা একইসাথে সমাজের উঁচু স্তরের প্রতিনিধি করতো, আবার তাদের জন্যে আলাদা সংরক্ষিত ঘর বাড়ি ছিল, রাজা জমিদাররাই তাদের খর পোষ চালাতো৷ উপমহাদেশে বর্তমান আকারে পতিতালয় প্রথম চালু করে ব্রিটিশরা৷ রাষ্ট্রীয় ভাবে আইনের মাধ্যমে এটাকে বৈধতাও দেয়৷ ক্যান্টনমেন্ট এক্ট 1865 নামে পরিচিত এই আইন৷ এই আইনের আওতায় প্রতিটা ক্যান্টনমেন্টের পাশে একটা সংরক্ষিত এলাকা থাকতো, যেখানে বারো থেকে পনেরোজন নারী রাখা হতো, যাদের সাথে অবাধে ব্যারাকের সৈন্য রা সেক্স করতে পারতো৷ সংরক্ষিত এলাকাটিকে বলা হতো ‘চাখালা’৷ পরবর্তীতে 1895 তে আরেকবার আইন পরিবর্তন করে পোর্ট গুলোতে সমুদ্রগামী নাবিকদের যৌন ক্ষুধা মেটাতে বন্দরে বন্দরে পতিতালয় খোলার লাইসেন্স দিলো ৷ যা থেকে কলকাতার সোনাগাছি কিংবা নারায়ণগঞ্জের টানবাজারের জন্ম৷ এইসব সংরক্ষিত এলাকায় যৌনতা বেচা কেনার বৈধ্য সিস্টেম চালু করার পেছনে ব্রিটিশদের নিজস্ব চিন্তা ভাবনা, ইতিহাস জড়িত৷ সতেরো শতাব্দীর দিকে বাণিজ্য এবং যুদ্ধ করতে থাকা আটলান্টিক কিংবা ভূ মধ্যসাগরে ব্রিটিশ শিপগুলোতে দীর্ঘদিন ঘর ছাড়া পুরুষগুলোকে যৌন স্বাদ দেবার জন্যে শুধু মাত্র নারীদের বহনকারী কিছু ছোট ছোট জাহাজ থাকতো, তাদের বলা হতো ফ্লোটিং ব্রোথেল শিপ৷ উপমহাদেশে প্রথম পতিতালয় চালুর পিছনে দুটা উদ্দেশ্য ছিল ৷ এক : ব্রিটিশ সৈন্যরা যাতে দীর্ঘদিন ব্যারাকে থেকে সমকামী না হয়ে যায়৷ দুই : লোকাল সৈন্যরা যাতে ব্যারাকের বাহিরে যৌন কাজ করে বিভিন্ন রোগকে না ছড়ায়৷ তখন সংরক্ষিত এলাকায় নারীদের রেখে তাদের প্রতি সপ্তাহে ডাক্তার দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে সৈন্যদের জন্যে প্রস্তুত রাখা হতো ৷

জামাতের বিষাক্ত রাজনীতিকে এমন করেই আলাদা করে রাখলে তাদের চিহ্নিত মুখ সহজেই চোখে পড়বে, তাদেরকে ধীরে ধীরে নির্জীব করা যাবে৷ নিষিদ্ধ করে তাদেরকে নিশি কৈন্যাদের মতো সমাজের চিপাগলিতে দশ টাকায় বিক্রি হবার সুযোগ করে দিলে নিজেদের পরিবারের সদস্যদেরি তারা টার্গেট করে জীবাণু ঢুকাবে, জীবাণু ছড়াবে৷

অপূর্ব চৌধুরী: লেখক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট

আরও পড়ুন