বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

দিনাজপুরে মাইক্রোবাস চালককে গলা কেটে হত্যা

pic_134686দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ডুগডুগী হাটে মাইক্রোবাস চালক আব্দুর রহিম বাদশা (৩০) কে পাঁচবিবি এলাকায় বারকান্দ্রি নামক স্থানে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।

সোমবার দিবাগত রাতে পাঁচবিবি উপজেলা বারকান্দ্রি-ঘোড়াঘাট উপজেলার জিরো পয়েট দেওগ্রাম নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুর রহিম বাদশা ঘোড়াঘাট উপজেলার বিলপাড়া গ্রামের মোঃ আমিনুর রহমানের মাইক্রোবাস চালক। আব্দুর রহিম বাদশা পরিবারের লোকজনের নিকট জানা যায়, রোববার সন্ধ্যার দিকে আব্দুর রহিম বাদশা মাইক্রোবাসে গ্যাস তোলার জন্য বগুড়া যাওয়ার কথা বলেছে। এ সময় মাইক্রোবাসে ছিল তার হেলপার উপজেলার শালগ্রাম নিখিরা গ্রামের শহিদুলের পুত্র মোঃ সেলিম (৩০)। রাত অনুমান ১১টার দিকে পিতা সাহাদৎ হোসেন প্রধান সাদা মিয়া পুত্র আব্দুর রহিম বাদশাকে ফোন করে জানতে চান, বাড়ি ফিরবে কখন। এরপর থেকে বাড়ির লোকজন তাকে আর ফোনে পায়নি।

পুলিশ সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে মাইক্রোবাসের সীটে বসা তার গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে। এ ব্যাপারের সকাল ১০টার দিকে পাঁচবিবি থানা পুলিশ লাশ উদ্ধারসহ মাইক্রোবাসটি পাঁচবিবি থানায় নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় পাঁচবিবি থানা পুলিশ হেলপার মোঃ সেলিমকে তার নিজ বাড়ি থেকে জিঙ্গাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

আব্দুর রহিমের জ্যাঠাত ভাই মজনু মিয়া জানান, আব্দুর রহিমের স্ত্রী আকলিমা বেগম (২৬) এর সাথে হেলপার সেলিমের পরকিয়ার কারণেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। এ ছাড়া ঈদের দুই দিন আগে পারিবারিক কলহে স্ত্রী আকলিমা তার পিতার বাড়ি চলে যায়। গত ৬-৭ বছর পূর্বে আব্দুর রহিমের নবাবগঞ্জ উপজেলার হেয়াতপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের কন্যা আকলিমার সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারের একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। গতকাল সোমবার এ সংবাদ শোনার পর স্ত্রী, শাশুড়ী ও শশুর ডুগডুগী হাটে আসে।

একটি সূত্রে জানা গেছে, আব্দুর রহিমের পরিবারের লোকজন তাদের আটক করে রেখেছে।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, হেলপার সেলিম একটি ভাড়া ঠিক করে আব্দুর রহিমকে মাইক্রোবাস সহ ডেকে নিয়ে যায়। এ সময় মাইক্রোবাসে ছয়-সাত জন লোক ছিল। একই রাতে পাঁচবিবি এলাকার বিনধারা গ্রামের শাহিন নামের এক শিক্ষকের বাড়িতে ডাকাতি সংঘটিত হয়। সূত্রটি অনুমান করছে, সেলিম আব্দুর রহিমের মাইক্রোবাসটি ভাড়া করে ডাকাতির কাজে ব্যবহার  করা হতে পারে। হয়তো আব্দুর রহিম তাদের চিনে ফেলার কারণেও হত্যাকাণ্ডটি সংগঠিত হয়।

সরজমিনে গিয়ে দেখে গেছে, মাইক্রোবাসটি ঘটনাস্থলের রাস্তার পাশে সরাসরি ডুগডুগী অভিমুখে দাড় করানো রয়েছে। মাইক্রোবাসের চালকের সীটে বসা রয়েছে চালক আব্দুর রহিমের গলা কাটা লাশ। পুলিশ লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে।

আরও পড়ুন