জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে মঙ্গলবার ভোরে দুর্বৃত্তরা মহামায়া দুর্গা মন্দিরের পাঁচটি প্রতিমা ভাঙচুর করেছে।
প্রতিমা ভাঙচুরের কারণে সকাল থেকে সেখানে পূজা-অর্চনা বন্ধ রয়েছে। কারা প্রতিমা ভাঙচুর করেছে, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। দুপুর থেকে মন্দিরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মন্দির-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সকালে মন্দিরের নাগিনী, যোগিনী, কালী, মহাদেব ও সরস্বতীর মূর্তির হাত-পা ও মাথা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
মন্দিরের সামনের উন্মুক্ত স্থানে দাঁড়িয়ে ভক্তরা পূজা-অর্চনা করতেন। ভক্তি প্রদর্শন করতেন। সকালে নির্মল চন্দ্র সাহা নামের এক ভক্ত পূজা দিতে এসে পাঁচটি প্রতিমা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান।
ভক্ত নির্মল চন্দ্র সাহা জানান, তিনি সকাল নয়টায় মন্দিরে পূজা দিতে গিয়ে প্রতিমা নিচে ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় দেখতে পান। প্রতিটির হাত-পা ও মাথা ভাঙা ছিল। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি মন্দিরের সভাপতিকে খবর দেন।
পৌরসভার লুইস ড্রেফাস মহামায়া মন্দিরের সভাপতি ননী গোপাল সাহা জানান, খবর পেয়েই তিনি ছুটে আসেন। এসে দেখতে পান পাঁচটি প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিমা ভাঙচুরের কারণে সকাল থেকে মন্দিরে পূজা-অর্চনা বন্ধ রয়েছে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয় হিন্দু নেতাদের জানান। তাঁরা বেলা একটার দিকে পুলিশে খবর দেন।
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ সরিষাবাড়ী শাখার সভাপতি রণেশ চন্দ্র সূত্রধর মন্দির পরিদর্শনে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের আমরা ঘৃণা করি। এর বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।’ তিনি বলেন, দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের জন্য একটি চক্র এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিল্লাল উদ্দিন বলেন, প্রতিমা ভাঙচুরের খবর পেয়ে দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। সেখান থেকে পাঁচটি প্রতিমার ভাঙা টুকরা সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, নিরাপত্তার জন্য দুপুর থেকে মন্দিরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


