‘রাজশাহীতে আমাদের পরবর্তী কিলিং মিশন’ শিরোনামে চিঠি পাঠিয়ে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদকে জঙ্গি সংগঠন আইএস’র নামে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় রাজশাহী প্রেসক্লাবে ডাকযোগে পাঠানো এক চিঠিতে এ হুমকি দেওয়া হয়।
রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, চিঠিটি রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর লেখা। সন্ধ্যায় তিনি রেজিস্ট্রি করা এ চিঠিটি হাতে পান। এরপর তিনি বিষয়টি আসাদুজ্জামানকে জানান। চিঠির প্রেরক হিসেবে লেখা হয়েছে, ‘হেকমত আলী, আত্রাই, নওগাঁ’।
ওই চিঠিতে ‘রাজশাহীতে আমাদের পরবর্তী কিলিং মিশন’ শিরোনামে বলা হয়েছে, ‘আমরা তাকে বারবার সতর্ক করার পরও সে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নে সভা-সমাবেশে আমাদের সম্পর্কে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দেন এবং ইসলামী চিন্তাবিদদের চ্যালেঞ্জ দেন, যা বাংলাদেশের ইসলামের জন্য হুমকি। আবার তিনি শেখ হাসিনাকে ইসলাম দরদি বানানোর চেষ্টা করে বক্তব্য রেখে বলেছে শেখ হাসিনার হাতে বাংলাদেশের ইসলাম নিরাপদ, তিনি ইসলামী আইনে দেশ পরিচালনা করছেন, দেশে আলেম ওলামাগণকে সর্বোচ্চ সম্মান দিচ্ছেন। কিন্তু আপনারা অবগত আছেন এই জালেম সরকারের নির্যাতন, হত্যা, গুম এগুলোর হাত থেকে দেশের ইসলামী চিন্তাবিদ, আলেম, ওলামাগণ এমনকি ইসলামী আদর্শের সাধারণ মানুষও ছাড় পাচ্ছে না। আর আসাদুজ্জামান আসাদ এই সরকারের ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে কাজ করছে। ইসলাম অপপ্রচার এমনভাবে করছে যে, তার জন্যই তাকে আমাদের পরবর্তী কিলিং মিশনের টার্গেট।’
এ চিঠির ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, আওয়ামী লীগের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করতে এ ধরনের উড়োচিঠি দিয়ে নেতা-কর্মীদের বিভ্রান্ত করা চেষ্টা করা হচ্ছে। এসবে তিনি বিচলিত নন।
জানতে চাইলে নওগাঁর আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বদরুদ্দৌজা বলেন, ‘বিষয়টি জানতাম না। আমরা এখন খোঁজ-খবর নিয়ে দেখব, আত্রাইয়ে হেকমত আলী নামে কোনো জঙ্গি আছে কিনা। এ ধরনের চিঠিকে অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।’
প্রসঙ্গত, গত ২ মে রাজশাহীর ১০ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে হত্যার হুমকি দিয়ে নাটোর প্রেসক্লাবে চিঠি দেওয়া হয়। এই ১০ জনের মধ্যেও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের নাম ছিল। ‘ইসলামী লিবারেশন ফ্রন্টের (আইএলএফ) নামে ওই চিঠি পাঠানো হয়।


