রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দায়ের করা একটি স্বর্ণ চোরাচালানের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ ছাড়াই বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করা হবে।
গত ১২ জুন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ এস এম জিয়াউর রহমান যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে রায় ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) আসাদুজ্জামান খান জানান, ‘২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর মামলাটিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হওয়ার পর ২০০৭ সালের ৫ জুন পর্যন্ত ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করেছেন বিচারক। তবে এদের মধ্যে মামলার প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা মুন্সী আতিকুর রহমান সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির হননি। আদালত থেকে তাকে বারবার সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য সমন ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেওয়া হলেও তিনি (তদন্ত কর্মকর্তা) আদালতে সাক্ষ্য দিতে আসেননি।’
মামলার নথি থেকে জানা যায়, এজাহার দায়েরের পর মামলাটিতে দুজন তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত করেন। তারা হলেন, পুলিশ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম এবং সিআইডি পুলিশের তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার (অব.) মুন্সী আতিকুর রহমান।
মুন্সী আতিকুর রহমান সর্বশেষ মামলাটি তদন্ত শেষে ২০০৩ সালের ৩ জুন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ফলে মামলার প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা তিনি।
মামলাটি বিচারের জন্য এ আদালতে বদলি হয়ে এলে অভিযোগপত্রের সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
এ মামলার আসামিরা হলেন সমীর মজুমদার, ইসহাক ওরফে ইসমাইল, জহিরুল হক, মো. সেলিম, আব্দুল ওহাব তালুকদার, আলহাজ হুমায়ুন কবির ও আব্দুল মালেক।
আসামি সমীর ও জহিরুল জামিনে গিয়ে পলাতক, ইসহাক কারাগারে এবং অপর আসামিরা জামিনে আছেন।
এদিকে তদন্ত কর্মকর্তা মুন্সী আতিকুর রহমানের সাক্ষ্য ছাড়াই মামলাটিতে রায় ঘোষণা হলে বড় ধরনের ত্রুটি থেকে যাবে এবং আসামিরা এ কারণে উচ্চ আদালত থেকে খালাসও পেতে পারেন বলে মনে করছেন মামলা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এ সম্পর্কে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর এহসানুল হক সমাজী সাংবাদিকদের বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য না নিয়ে রায় ঘোষণায় আইনগত কোনো বাধা নেই। তবে তদন্ত কর্মকর্তা সাক্ষ্য না দিলে রাষ্ট্রপক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত বেশি হয়। আসামিপক্ষ সেই ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইনের ১৪৩ ধারা অনুযায়ী আসামিদের জন্য সুবিধা চাইতে পারেন।
এজাহার থেকে জানা যায়, ২০০২ সালের ১০ অক্টোবর রাজধানীর নাখালপাড়ার লুকাস মোড়ে চেকপোস্টে সমীর মজুমদার এবং ইসহাক ওরফে ইসমাইল নামের দুই ব্যক্তির দেহ তল্লাশিকালে তাদের কোমরে বাধা অবস্থায় ১২০টি করে ২৪০টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় আর্মড পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নান্না মিয়া রাজধানীর তেজগাঁও থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫-বি ধারার অভিযোগ এনে মামলাটি করেন।
মামলাটি তদন্তকালে আসামি সমীর স্বর্ণের বার অবৈধভাবে পাচারের কথা স্বীকার করে ২০০২ সালের ২০ অক্টোবর সিএমএম আদালতে স্বীকারোক্তি জবানবন্দি দেন। স্বীকারোক্তি দেওয়ার সময় আসামির জবানবন্দিতে আরো সাতজনের নাম উঠে আসে।
এদিকে আদালত সূত্রে জানা যায়, এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুন্সী আতিকুর রহমান ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি। মামলাটিতে তিনি জামিনে থেকে প্রত্যেক ধার্য তারিখে হাজিরা দিচ্ছেন। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এ মামলায় পুলিশ এ সাক্ষীকে হাজির করতে পারেননি। এ ছাড়া এ সাক্ষীকে হাজির না করার বিষয়ে কোনো প্রকার পুলিশ প্রতিবেদন ছাড়াই সাক্ষ্য গ্রহণ মুলতবি করে রায়ের জন্য দিন ধার্য করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।


