বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

নর্থ সাউথের ৪০ শিক্ষার্থীর তথ্য চেয়েছে সরকার

555_174297-415x260বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথের ৪০ শিক্ষার্থীর তথ্য চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এই ৪০ শিক্ষার্থী ক্লাসে প্রায়ই অনিয়মিত থাকেন ও দুই বছর ধরে কমবেশি ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত। ইউজিসি থেকে একটি তালিকা পাঠিয়ে এই শিক্ষার্থীদের বিষয়ে বিশদ তথ্য চেয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বসুন্ধরা ক্যাম্পাসে সরেজমিন তদন্তে গেছে ইউজিসির একটি তদন্ত দল।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, একটি গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই অফিসিয়ালি ওই ৪০ ছাত্রের তথ্য চাওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় উইংয়ের দায়িত্বশীল সূত্র এই ৪০ ছাত্রের তালিকা দিয়ে তথ্য চাওয়ার কথা স্বীকার করেছে। যদিও এই ৪০ ছাত্রের নাম প্রকাশ করেনি সূত্র।

তবে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনুপস্থিত থাকা মানেই তারা জঙ্গিবাদী কার্যক্রমে জড়িয়েছে এমনটি সবার ক্ষেত্রে নাও হতে পারে। বাবার ব্যবসা দেখাশোনার জন্যও অনেকে দু’এক সেমিস্টার গ্যাপ দেয়। তবে এক সেমিস্টারের বেশি গ্যাপ দিলে ছাত্রত্ব বাতিলের নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর কেউ হয়তো আর এমনটি করবে না।

ইউজিসি সূত্র জানায়, যে ৪০ ছাত্রের তথ্য চাওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থীই ১১ জন। এ ছাড়া বিবিএ, ফিন্যান্স ও প্রকৌশল বিষয়ের আরও কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা এর মধ্যে রয়েছেন।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের (বিওটি) সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হচ্ছে। তারা সরকারকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি তারা নিজ উদ্যোগেও শিক্ষার্থী ও কর্মরত শিক্ষকদের ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে খোঁজখবর নেবেন।

তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে গত দু’বছর অনুপস্থিত ছিল এমন ছাত্রদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। যদিও এটা প্রস্তুত করা কঠিন। এরপরও আমরা তালিকাটি তৈরি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ ছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগের ৩০-৪০ ছাত্রের ব্যাপারে তথ্য চাওয়া হয়েছে। আসলে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো ছাত্রের তথ্য চাওয়া হচ্ছে। আমরা সে সব তথ্যও সরবরাহ করছি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, এ যাবত গ্রেফতার জঙ্গিদের মধ্যে স্কলাসটিকা স্কুলের ১৪তম ব্যাচের এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ও ইইই বিভাগের ছাত্র বেশি। যে কারণে এ দুই প্রতিষ্ঠানের দিকে সন্দেহের তীর প্রবল।

ওই সূত্র আরও জানায়, এ কারণে এই দুই প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যাচের সব ছাত্রের বিষয়ে খোঁজ নিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব ব্যাচের ও বিভাগের আর কে কোথায় কী করছে, কে মিসিং আছে সে সব তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়।

আরও পড়ুন