ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় নিস শহরে বৃহস্পতিবার জনতার ওপর দ্রুতগতির লরি-হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছে শতাধিক মানুষ। খবর বিবিসির।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলের নিস শহরে যখন বাস্তিল বাস্তিল দিবস উদযাপন করতে বহু লোক ওই সময় শহরের ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী বিখ্যাত প্রমেনেদ দেজাঙ্গলে চত্বরে জড়ো হয়েছিলেন। আতশবাজির প্রদর্শনী শেষ হওয়ার পরপরই স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে সেই ভিড়ের মধ্যে দিয়ে ২৫ টনি ওই ট্রাক প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তা এগিয়ে যায়।
টুইটারের কয়েকটি ছবিতে দেখা যায় যে, অনেক মানুষ রাস্তার ওপর পড়ে রয়েছে। এই ঘটনাকে একটি সন্ত্রাসী হামলা বলে বর্ণনা করছে শহরটির কর্তৃপক্ষ। তারা বাসিন্দাদের ঘরের ভেতর থাকার জন্যও অনুরোধ করেছে।
নিস শহরের প্রসিকিউটরদের উদ্ধৃত করে ফরাসি গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে যে, সেখানে অন্তত ৮৪ জন নিহত হয়েছে এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। নিস শহরের মেয়র ক্রিশ্চিয়ান এস্ট্রোসি নিশ্চিত করে বলেছেন, একজন লরি চালক কয়েক ডজন মানুষ হত্যা করেছে।
ফ্রান্সের গণমাধ্যমের কাছে প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন দাবি করেছেন, সেখানে তারা গুলির শব্দও শুনতে পেয়েছেন। যদিও এই তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
শহরটির একজন বাসিন্দা বলছেন, আমরা কয়েকটি গুলির শব্দও শুনতে পারি। প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম যে, সেগুলো হয়তো আতশবাজির শব্দ। কিন্তু সবাইকে দৌড়ে পালাতে দেখে আমরাও আতকিংত হয়ে পড়ি। পরে আমরা একটি হোটেলে আশ্রয় নেই।
সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনার বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ হয়েছে। তাতে দেখা যায়, অসংখ্য মানুষ আতকিংত মুখে শহরের রাস্তা ধরে ছুটে পালাচ্ছে।
ঘাতক লরি চালককেও পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন। তবে তার পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
বাস্তিল দুর্গ পতনের দিবস হিসাবে ফ্রান্সে জাতীয়ভাবে দিনটি পালন করা হয়, এই উপলক্ষেই শহরটিতে নানা অনুষ্ঠান চলছিল।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ওই ট্রাক মানুষকে পিষতে পিষতে অগ্রসর হাচ্ছিল, চারদিকে ছিটকে পড়ছিল মানুষ। এই হামলা যখন ঘটে হাজার হাজার নারী পুরুষ শিশু তখন সঙ্গীতমুখর পাম গাছে শোভিত চত্বর ধরে হাঁটছিলেন বিখ্যাত নেগ্রেসকো হোটেলের দিকে।
ইউটিউবে আসা এক ভিডিওতে দেখা যায়, ২৫ টনি ওই ট্রাক হামলে পড়ার পর বাদ্য-বাজনা ছপিয়ে পুরো এলাকা ভরে ওঠে আতঙ্কিত মানুষের চিৎকার; সাহায্যের আশায় দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন সবাই।
প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি ফ্রান্স ইনফোকে বলেন, তিনি গুলির শব্দও শুনেছেন। প্রথমে আতশবাজির শব্দ মনে করলেও পরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তিনিও অন্যদের মত নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দৌড়াতে থাকেন।
প্যারিসে ইসলামী স্টেট জঙ্গিদের হামলায় ১৩০ জন নিহত হওয়ার আট মাসের মাথায় ফ্রান্সজুড়ে জরুরি অবস্থার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। একজন হামলাকারীই নিসের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী প্রাথমিকভাবে হামলার দায় স্বীকার না করলেও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া অলন্দ একে সন্ত্রাসী হামলা বলেছেন। ফ্রান্স এখন ‘ইসলামী সন্ত্রাসবাদের হুমকির মুখে’ মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, “এর বিরুদ্ধে লড়তে সম্ভব সব কিছুই আমাদের করতে হবে।”


