সুন্দরবনের বনদস্যু ‘মজনু ও ইলিয়াস’ বাহিনীর দুই প্রধানসহ তাদের অপর নয় সহযোগী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।
শুক্রবার (১৫ জুলাই) দুপুরে মংলা বন্দরের বিএফডিসি জেটিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে অস্ত্র ও গোলাবারুদ তুলে দিয়ে আত্মসমর্পণ করে তারা। বনদস্যু মাস্টার বাহিনীর পর বনদস্যু মজনু এবং ইলিয়াস বাহিনীর আত্মসমর্পণের এটি দ্বিতীয় ঘটনা।
এর আগে গত ৩১ মে সুন্দরবনের আরেক বনদস্যু ‘মাস্টার বাহিনী’র প্রধান মোস্তফা শেখ ওরফে কাদের মাস্টার ও তার দশ সহযোগী আত্মসমর্পণ করে। ওই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মাস্টার বাহিনী ৫২টি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও পাঁচ হাজার রাউন্ড গুলি জমা দেয়। বনদস্যু মাস্টার বাহিনীর সদস্যরা বর্তমানে বাগেরহাট জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছে।
শুক্রবার আত্মসর্পণ করা দুই বনদস্যু বাহিনীর প্রধানসহ ১১ দস্যু ১৭টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬৬৫টি গুলি জমা দেয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, সুন্দরবনের ইলিয়াস ও মজনু বাহিনীর মতো অন্য বনদস্যুরাও আত্মসমর্পণ করে সুস্থ, স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলে সরকার সহায়তা করবে। সুন্দরবনসহ সারা বাংলাদেশকে আমরা জঙ্গি, সন্ত্রাস ও দস্যুমুক্ত রাখতে চাই। তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনে দস্যুতাসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত থাকবে তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, খুলনা রেঞ্জের পুলিশের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, র্যাব-৮ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফরিদুল আলম, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলমসহ র্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
র্যাব-৮ এর উপ-অধিনায়ক মেজর আদনান কবির জানান, ইলিয়াস ও মজনু বাহিনীর যেসব সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন তাঁরা হলেন, ইলিয়াস বাহিনীর প্রধান ইলিয়াস গাজী (২৭), মজনু বাহিনীর প্রধান মজনু গাজী (৪৩), নাছির উদ্দিন (৩৩), রবিউল ইসলাম (২৮), ইসমাইল গাজী (৫০), এনামুল সর্দার (২৭), ইদ্রিস আলী (২৮), আবুল কালাম আজাদ (২০), মঞ্জু শেখ (৪৩), জাহাঙ্গীর মোড়ল (২২) ও বাবুল হাসান (২৪)। তাঁদের বাড়ি খুলনার দাকোপ ও কয়রা উপজেলা এবং সাতক্ষীরার তালা ও শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।
মেজর আদনান কবির আরও জানান, ২০১৩ সাল থেকে ইলিয়াস ও মজনু বাহিনী পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের মুিন্সগঞ্জ সংলগ্ন এলাকাগুলোতে জেলেদের অপহরণ ও দস্যুতা করছিল। দাকোপ ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন থানায় তাদের নামে ও বেনামে একাধিক মামলা রয়েছে।
গত ৩১ মে মোংলায় একই জায়গায় প্রায় ৫২টি দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও পাঁচ হাজার রাউন্ড গুলি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন সুন্দরবনে বনদস্যু মাস্টার বাহিনীর প্রধান মাস্টারসহ ১০ জন।


