বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ডাক গণজাগরণ মঞ্চের

Gonijagoron Manch Shahbaghবাংলাদেশের পরিস্থিতি যেখানে দাঁড়িয়েছে, সেখানে মিছিল-সমাবেশের মাধ্যমে কিছু হবে না। জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। আমাদেরও তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে। এ জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

শুক্রবার ১৫ জুলাই বিকেলে শাহবাগে ‘সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদমুক্ত নিরাপদ বাংলাদেশ চাই’ শীর্ষক নাগরিক সমাবেশে এ ঘোষণা দেন  গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার।

মুখপাত্র আরো বলেন, ‘আজকে কোনো হত্যার বিচার নেই। আজকে বিচার চাইতে গেলে সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতির দায় কাউকে না কাউকে নিতেই হবে।’ রাষ্ট্রযজ্ঞ এর আগে হামলাগুলোর বিচার না করায় এসব বড় হামলা আসছে বলে মন্তব্য করেন ইমরান।

সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. অজয় রায়ের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, মানবাধিকারকর্মী খুশি কবির, ভাস্কর রাসা, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লাকি আক্তার, বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামিক জোটের সভাপতি জিয়াউল হাসান প্রমুখ। সমাবেশে গণজাগরণ মঞ্চ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কিছু কর্মসূচি ঘোষণা করে।

সভাপতির বক্তব্যে ড. অজয় রায় বলেন, ইসলামকে ব্যবহার করে পুরোহিত, পূজারিদের মতো শান্তিপ্রিয় মানুষদের হত্যা করছে। কী উদ্দেশে করছে তা জানি না।

ইসলাম শান্তির ধর্ম এবং এসব হত্যাকাণ্ড ইসলামের বিপরীতে যায় উল্লেখ করে অজয় রায় বলেন, ‘ইসলামের নাম ব্যবহার করে পুরোহিত হত্যা করে ইসলাম কতটুকু অগ্রসর হচ্ছে তা আমি জানতে চাই।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ অধ্যাপক বলেন, ‘আমাদের মধ্যবিত্ত শ্রেণির একদল বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র জঙ্গি হয়ে উঠছে। গুলশান হত্যাকাণ্ডের পাঁচ-ছয়জন উচ্চ মধ্যবিত্তের সন্তান। আমরা এতদিন মাদ্রাসা ও কওমি মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্রদের দোষ দিতাম। কিন্তু আমি এখন বিব্রত হচ্ছি। তথাকথিত সেক্যুলার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এখন জঙ্গিতে পরিণত হচ্ছে। এ জন্য গোয়েন্দাদের আরো তৎপর হতে হবে। একই সঙ্গে সরকারকে আরেকটু বিশ্লেষণ করতে হবে, কেন এগুলো ঘটছে।’

অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, ‘সবাই মিলে জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জোর আওয়াজ তুলতে হবে। আমরা যার যার অবস্থান থেকে প্রতিবাদ না করলে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না। সব ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ না করলে এসব বন্ধ হবে না।’

এ মানবাধিকারকর্মী বলেন, ‘দুঃখের বিষয় আজ আমরা সবকিছু থেকে বঞ্চিত। আমরা আজ স্বামীহারা হচ্ছি, বাবাহারা হচ্ছি, মা-হারা হচ্ছি, সন্তানহারা হচ্ছি। এটা ভুলে গেলে চলবে না, ৭১ সালেও এভাবেই স্বজনদের হারাতে হয়েছে। বাংলাদেশে কখনো জঙ্গিবাদ প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে না। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’

খুশি কবির বলেন, ‘প্রত্যেক নাগরিকেরই সমান অধিকার থাকতে হবে। সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ করা থেকে আমরা অজ্ঞাত কারণে বিরত। আমাদের আতঙ্কগ্রস্ত হওয়া যাবে না। সবাইকে জোর আওয়াজ তুলতে হবে সরকার যেন এটাকে একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে নেয়।’

ভাস্কর রাসা বলেন, ‘দেশের এমন পরিস্থিতি কেউ কখনো আশা করেনি। এর মূল কারণ হচ্ছে, আমাদের দেশে রাজনীতি নিয়ে ব্যবসা চলছে। এর দায় সরকারের, জনগণের নয়। সরকার অজ্ঞাত কারণেই জামায়াতকে নিষিদ্ধ করছে না। যার কারণে জঙ্গিবাদ চারদিকে ছড়িয়ে যাচ্ছে।’

লাকি আক্তার বলেন, ‘যারাই ক্ষমতায় আসে তারাই জঙ্গিবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে। প্রথম যারা হামলা করেছে, তাদের বিচারে অবহেলা করছে সরকার। এখন এদের প্রতিহত করতে না পারলে আমাদের ভবিষ্যৎ আরো অন্ধকারের দিকে যাবে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে গ্রাম মহল্লায় আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে।’

জিয়াউল হাসান বলেন, মানবজাতির শত্রু আইএস। জামায়াতিরা একাত্তরে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। আইএসও একই কাজ করছে। এটা ইহুদিদের অস্ত্র বিক্রির পাঁয়তারা। আইএস ও যুদ্ধাপরাধী দুটি একই সূত্রে গাঁথা। এরা ইসলামের শত্রু, নবীর শত্রু। এদের দমন করতে হবে। একাত্তরে যেভাবে দমন করা হয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে দমন করতে হবে।

সমাবেশ শেষে একটি পতাকা মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে টিএসসি হয়ে আবার শাহবাগে এসে শেষ হয়।

গণজাগরণ মঞ্চের কর্মসূচি
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৮ জুলাই সারা দেশে একযোগে গণসংযোগ কর্মসূচি ‘প্রতিরোধ ঘরে ঘরে’। ২০ জুলাই সারা দেশের জেলা-উপজেলায় বিকেল ৪টায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ। ২২ জুলাই শুক্রবার শাহবাগে গণমিছিল ও পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা।

আরও পড়ুন