বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ভারতে যাওয়া ছিটমহলবাসীরা ফিরতে চান বাংলাদেশে

Sitmahal-Good Bye Bangladeshবিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতা।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ছিটমহল থেকে যেসব ছিটবাসী ভারতে গিয়ে সেখানকার নাগরিকত্ব নিয়েছিলেন তাদের অনেকেই আবার ফিরতে চান বাংলাদেশে। পুনর্বাসনের অভাবে বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ এই ছিটবাসীদের বেশ কয়েকজন ইতিমধ্যেই গোপনে বাংলাদেশে ফিরে গিয়েছেন বলেও জানা গেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই জানানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে।

বিষয়টি প্রথমে জানতে পেরেছিলেন বাংলাদেশে ভারতের তৎকালীন সহকারী হাইকমিশনার অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়। গত মে মাসে স্থলসীমান্ত চুক্তি কার্যকর পরবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তিনি পঞ্চগড়ে গিয়েছিলেন। সেই সময়ই তিনি জানতে পারেন যে,  জমি-জমা বেঁচে ভারতে চলে যাওয়া অনেকেই আবার ফিরে আসতে চাইছেন। তেমনটা হলে নানারকম জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এরপর নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো রিপোর্টে তিনি জানিয়েছেন, যেসব ভারতীয় নিজের ভূখণ্ডে গিয়েছিলেন, নানা কারণে তারা এখন বাংলাদেশে ফিরতে চাইছেন, যা কাঙ্ক্ষিত নয়।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর ‘নবান্ন’ সূত্রে খবর, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে রিপোর্টটি ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পাঠিয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়েছে। তার পরেই মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বিষয়ক অধিকর্তা বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে বিশদে জানতে চেয়েছেন। এই ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে কোচবিহার জেলা শাসকের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।

ভারতীয় ছিটমহলগুলো বাংলাদেশে মিশে যাওয়ার পর ভারতে এসেছিলেন ৯২১ জন। তাদের মধ্যে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। জন্মও হয়েছে ৪ জনের। দিনহাটায় ৫৬টি, মেখলিগঞ্জে ৫৪টি এবং হলদিবাড়িতে রয়েছে ৯৬টি পরিবার।

সাবেক ছিটের বাসিন্দাদের রাখার জন্য ১০ কোটি টাকা খরচ করে দিনহাটা, মেখলিগঞ্জ এবং হলদিবাড়িতে তিনটি ক্যাম্প তৈরি করেছে কোচবিহার প্রশাসন। কিন্তু ক্যাম্পগুলিতে ছোট টিনের ঘরে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে মানুষকে।

বিভিন্ন ক্যাম্পে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে একটিই কথা, বছর ঘুরতে চললেও কিছুই হলো না। তাই অনেকেই চলে যেতে চাইছেন।

ভারতে ৩ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের কথা বলা হলেও বাস্তবে তেমন কিছুই হয়নি। অন্যপক্ষে, বাংলাদেশ সরকার ওপারের ছিটমহলবাসীর জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

হলদিবাড়ি ক্যাম্পের বাসিন্দা শরৎ রায় স্বীকার করেছেন যে, তার এক ভাইসহ দুই আত্মীয় চোরাপথে বাংলাদেশে ফিরে গিয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, তার ভাই বাংলাদেশে মিষ্টির দোকানের কারিগর ছিলেন। হাজার দশেক টাকা আয় ছিল। এখানে রুজি না মেলায় বাংলাদেশে চলে গিয়েছেন। কাজের সুযোগ না পেয়ে বাকিরাও গিয়েছেন।

মেখলিগঞ্জ ক্যাম্পের বাসিন্দা শরৎচন্দ্র বর্মন জানিয়েছেন, বাংলাদেশে তার দর্জির দোকানে পাঁচজন কর্মী খাটতো। পাঁচ বিঘার ওপরে জমি ছিল। খাওয়া-পরার কষ্ট ছিল না। এখন তিনি দিনমজুর। তার আক্ষেপ, সাতজনের সংসার। এখানে কোথাও দোকান দেয়ার জায়গা নেই। তাই দিনমজুরি করতে হয়। সরকার না দেখলে নিরুপায় হয়ে ভিন্ন পথেই ফিরতে হবে।

আরও পড়ুন