তুরস্কের সেনাবাহিনীর ক্ষুদ্র একটি অংশের অভ্যুত্থানের চেষ্টায় অন্তত ১৯৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন সহস্রাধিক। শুক্রবার রাত থেকে গণতন্ত্রপন্থীদের সঙ্গে অভ্যুত্থানকারীদের সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে ১০৪ জন অভ্যুত্থানকারী। বাকি ৯০ জনের মধ্যে ৪৭ জন বেসামরিক নাগরিক আর অন্যরা পুলিশ কর্মকর্তা। এ ঘটনায় পাঁচ জেনারেল ও ২৯ জন কর্নেলকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে ১৫শ’র বেশি সেনা গ্রেফতার হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোগানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে গণতন্ত্রপন্থীরা রাজপথে নেমে আসে। বিরোধী দলগুলোও এ অভ্যুত্থান চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেছে। সাধারণ জনগণের অনেককেই রাস্তায় সেনাদের ধাওয়া করতে দেখা গেছে। অভ্যুত্থানের চেষ্টার পর বহু সেনা আত্মসমর্পণ করেছেন। সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে জড়িতদের কঠিন পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান।
স্থানীয় সময় শনিবার তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আন্দালুর এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়।
তুরস্কের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা জানান, তুরস্কের সেনাসদর দপ্তরে আত্মসমর্পণ করেছেন ২০০ নিরস্ত্র সেনাসদস্য। পুরো ভবনটি ঘিরে রেখেছেন বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা।
এদিকে অভ্যুত্থানচেষ্টায় জড়িত সন্দেহে এক হাজার ৫৬৩ জন সেনাকে আটক করা হয়। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে তুরস্কের সেনাবাহিনীর একাংশ একটি টেলিভিশনে জানায়, তারা দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ইস্তাম্বুল শহরে বিভিন্ন সেতু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়, অভ্যুত্থানচেষ্টার সময় বরফরাস প্রণালি ও ফাতিহ সুলতান মেহমেত সেতুর ওপর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আংকারায় গুলির শব্দ পাওয়া যায়।
ইস্তাম্বুলে পুলিশ সদর দপ্তরের বাইরেও গুলির শব্দ শোনা যায়। ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের বাইরে ট্যাংক মোতায়েন করা হয়। সব ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়।
তুরস্কের বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভিতে সেনাবাহিনীর ওই অংশের একটি বিবৃতি সম্প্রচার করা হয়। এতে বলা হয়, ‘দেশের পুরো ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’
সেনাসদস্যদের একাংশের ওই ঘোষণার পর রাতেই জনগণকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তাঁর এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজধানী আংকারা ও গুরুত্বপূর্ণ শহর ইস্তাম্বুলে সেনাবিরোধী বিক্ষোভে নামেন সরকারসমর্থকরা। এরপর সকাল শুরু হতেই কয়েক ঘণ্টার অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।


