২০১৬ সালে বাংলাদেশে আইএস’র দাবি করা হামলাগুলো তুলে ধরে একটি ইনফোগ্রাফিক প্রকাশ করেছে আমাক। আইএস’র কথিত নিজস্ব এই বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠীদের তৎপরতা নজরদারি করা মার্কিন সংগঠন সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ।
সাইট এক টুইটে বলেছে, ‘আইসিসের আমাক বাংলাদেশে ২০১৬ সালে এখন পর্যন্ত আইসিসের দাবি করা ১১টি হামলা চিহ্নিত করে ইনফোগ্রাফিক প্রকাশ করেছে।’ টুইটের সঙ্গে ইনফোগ্রাফিকটিও প্রকাশ করা হয়েছে। হামলাগুলো হলো- ২১শে ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড়ে এক হিন্দু পুরোহিত হত্যা, ২২শে মার্চ কুড়িগ্রামে একজন খ্রিষ্টান যাজক হত্যা, ৩০শে এপ্রিল টাঙ্গাইলে একজন হিন্দু হত্যা, ২০শে মে কুষ্টিয়ায় একজন খ্রিস্টান হত্যা, ২৫শে মে রংপুরে একজন হিন্দুকে হত্যা, ৫ই মে রাজশাহীর বোনপাড়ায় একজন খ্রিস্টানকে হত্যা, ৭ই জুন ঝিনাইদহে একজন হিন্দু পুরোহিত হত্যা, ১০ই জুন বোনপাড়ায় একজন হিন্দুকে হত্যা, ১লা জুলাই ঢাকায় বিদেশিসহ ২৪ জনকে হত্যা এবং ১লা জুলাই ঝিনাইদহে একজন হিন্দুকে হত্যা।
এদিকে বাংলাদেশে পৃথক পাঁচটি হত্যাকাণ্ড থেকে দায় প্রত্যাহার করে নিয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। এর মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী খুন হওয়ার ঘটনাও আছে।
গত সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশে যত গুপ্তহত্যা হয়েছে, তার মধ্যে ১৬টির দায় স্বীকার করে নেয় আইএস। আর প্রায় ক্ষেত্রেই তাদের দায় স্বীকারের বিষয়টি মূলধারার গণমাধ্যমে আসে যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত ওয়েবসাইট ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স’-এর মাধ্যমে। তবে গতকাল ‘আমাক’-এর মাধ্যমে আইএস বাংলাদেশে হামলার যে তালিকা দিয়েছে, তাতে পাঁচটি হামলার দায় তারা প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
এসব হামলার মধ্যে রয়েছে—ঝিনাইদহের হোমিও চিকিৎসক ছমির উদ্দিন হত্যাকাণ্ড, একই জেলার শিয়া মতাবলম্বী আব্দুর রাজ্জাক হত্যাকাণ্ড, বান্দরবানের বৌদ্ধ ভিক্ষু মং শৈ উ হত্যাকাণ্ড, গাইবান্ধার ব্যবসায়ী তরুণ দত্ত হত্যাকাণ্ড এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ড। তবে আইএসের ওই তালিকায় গুলশান হত্যাযজ্ঞের কথা স্বীকার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, আইএস দায় স্বীকার করেছে—বাংলাদেশে এমন হামলায় গত ১০ মাসে অন্তত ৪৪ জন নিহত হয়েছে। অন্যদিকে আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ (একিউআইএস) শাখার নাম ব্যবহার করে ২০১৩ সাল থেকে ১৩টি হামলায় দায় স্বীকার করেছে আনসার-আল ইসলাম।


