বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

পিস টিভি’র বিকল্প ধর্মীয় চ্যানেলের চিন্তা করছে বাংলাদেশ সরকার

peace tv jakir Bannedবাংলাদেশে পিস টিভির সকল ধরনের সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। ওই সব দর্শকদের জন্য সরকার বিকল্প চিন্তাভাবনা করছেন। সরকারি ও বেসরকারি টিভিতে ইসলামিক অনুষ্ঠান বাড়ানোর পাশাপাশি ইমাম, আলেমদের সঙ্গে বৈঠক করেও এই ব্যাপারে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে।

তবে দর্শকদের জন্য কি ধরনের অনুষ্ঠানের করা হবে তা এখনও চুড়ান্ত করা হয়নি। এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে পরিস্থিতি ও চাহিদা বিবেচনা করে। এই ব্যাপারে প্রয়োজন হলে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের সঙ্গেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও  তথ্য মন্ত্রণালয় আলোচনা করবে।

এই ব্যাপারে সরকারের একজন নীতি নির্ধারক মন্ত্রী বলেন, পিস টিভি বন্ধ না করে কোন উপায় ছিলো না। কিছু সংখ্যক দর্শক থাকতে পারেন যারা ওই টিভি দেখতেন। সেটা বন্ধ করার পর এখন তাদের সাময়িকভাবে সমস্যাও হতে পারে। সেই বিষয়টি আমরা বিবেচনা করছি। আর কিভাবে তাদের সমস্যার সমাধান করা যায় সেটাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

ইসলামিক টিভি নামে বাংলাদেশে এর আগে একটি টেলিভিশন ছিলো। ওই টেলিভিশনের মালিকানা ছিলো বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ভাই সাঈদ এস্কান্দার, তার স্ত্রী নাসরীন এস্কান্দার প্রমুখ। ওই টিভি গত মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার বন্ধ করে দেয়। দিগন্ত টিভি নামে  মীর কাশেম আলীর মালিকানাধীন আরো একটি টিভি ছিলো। ওই টিভিও গত সরকারের আমলে মতিঝিলে হেফাজতের ঘটনার তথ্য ভুল ভাবে প্রচার করায় ও উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ এনে বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে ওই দুটি চ্যানেল বন্ধ আছে। এরপর সরকার নতুন করে কোনও ইসলামিক চ্যানেল করার জন্য কাউকে লাইসেন্স দেয়নি। নতুন করে সরকার ইসলামিক কোন টেলিভিশনের লাইসেন্স দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে কিনা জানতে চাইলে ওই মন্ত্রী বলেন, এই রকম কোন সিদ্ধান্ত এখনও প্রধানমন্ত্রী নেননি। তিনি নিলে এই ধরনের চ্যানেল চালু হতে পারে।

পিস টিভির বিকল্প হিসাবে কিংবা বাংলাদেশের মানুষ যাতে ঘরে বসেই ধর্মের বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে পারেন সেই ব্যাপারে কিছু ভাবা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আমরা মনে করছি মুসলমানদের সকলেরই তার ধর্ম ইসলাম সম্পর্কে জানা দরকার। সঠিক ব্যাখ্যাও যাতে পান সেটাও নিশ্চিত করা দরকার। সঠিক ব্যাখ্যা পেলে ধর্মের অপব্যাখ্যা করে যারা জঙ্গি হয়ে যাচ্ছে তারাও ভুল পথে যাবে না। কেউ গেলে ফিরে আসবে। বিটিভিতে ইসলামিক অনুষ্ঠান রয়েছে। বেসরকারি টেলিভিশনগুলোও ইসলামিক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে। ওই সব অনুষ্ঠান আরো বাড়ানো যায় কিনা সেটাও বিবেচনা করে দেখা হবে। বিশেষ করে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করা যায় কিনা সেটাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, টেলিভিশন ছাড়াও ইমাম, মাওলানা, আলেম সমাজের যারা আছেন তাদের সঙ্গে আমরা জঙ্গিবাদ নির্মূলের ব্যাপারে কথা বলেছি। পাশাপাশি এই সব ব্যাপারে ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যাও জানানোর জন্য বলেছি। তারাও সমাজের বিভিন্ন স্তুরের মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন। ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা দিবেন। আশা করছি জঙ্গিবাদ নির্মূলে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *