এক পাগলা কুকুরের কামড় খেয়ে নয়জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তবে তাদের ছাড়া আরও ২৬ জন এই কুকুরের কামড়ের শিকার হয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে। জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় শুক্রবার রাত সাড়ে আটটা থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে। এখনো কুকুরটিকে ধরতে না পারায় আতঙ্কে রয়েছে উপজেলার পাঁচটি গ্রামের মানুষ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে প্রথমে ওই উপজেলার পাখিমারি গ্রামে মানিক মিয়া নামের এক বৃদ্ধকে একটি পাগলা কুকুর কামড় দেয়। এরপর এটি সওদাগরপাড়া, মিয়াপাড়া, সাজিমারা ও সর্দারপাড়া গ্রামে চার শিশুসহ আরও ৩৫ জনকে কামড় দেয়। গ্রামবাসী জরুরি ভিত্তিতে কুকুরটিকে ধরার দাবি জানান।
গুরুতর আহত অবস্থায় শিশু রুজিনা আক্তার (৪), নুরনবী (৫), কাবিদ মিয়া (৫), নুসফা (১৪), গোলাছা বেগম (৩৫), হাবিবুর রহমান (৬০), আকরাম আলী (৪০), মুক্তা বেগম (৪০) ও আমেনা বেগমকে (৩২) বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. হিবরুল বারী বলেন, কুকুরের কামড়ে নয়জন ভর্তি হয়েছে। তাদের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা আশঙ্কামুক্ত।
সর্দারপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, ১৭ ঘণ্টা ধরে একটি পাগলা কুকুর গ্রামের মানুষকে আতঙ্কের মধ্যে রেখেছে। এটি একজনের পর একজনকে কামড় দিচ্ছে, কিন্তু একে ধরতে এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে একে ধরতে না পারলে আরও অনেকেই কামড়ের শিকার হতে পারে।
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন বলেন, পাগলা কুকুরটি শিশুসহ অনেককেই কামড় দিয়েছে। এটিকে ধরতে পুলিশের একটি দল চেষ্টা করছে। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কুকুরটি ধরতে এখন উদ্যোগ নেয়নি।
পাগলা কুকুরটি ধরতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান বলেন, জনবল না থাকায় কুকুরটি ধরা যাচ্ছে না।


